বিরোধী দলে থেকেই দাফনে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন-তাসনিম জারা
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:২৭
ছবি: সংগৃহীত
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা। তাঁর প্রশ্ন, বিরোধী দলে থাকতেই যদি একজন মৃত ব্যক্তিকে নিজের বসতভিটায় দাফনে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা হাতে পেলে কী করবে দলটি?
সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, জামায়াত নিজেদের নেতাদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মানবিক মর্যাদার কথা বলে। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে সেই নীতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ভোটের আগে ও বক্তৃতায় ইনসাফের কথা বললেও একজন মৃত ব্যক্তি ও তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা তুলে ধরে জারা বলেন, মৃত্যুর পর একজন মানুষের মর্যাদাপূর্ণ বিদায় নিশ্চিত করাও মানবিক দায়িত্ব। অথচ এ ঘটনায় পরিবারকে মরদেহ নিয়ে দীর্ঘ সময় উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
তাসনিম জারা লেখেন, শনিবার সকাল ১০টার দিকে ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী মারা যান। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা পিরোজপুরে তাঁকে দাফন করতে দেওয়া হবে না বলে মিছিল করেছেন এবং মাইক ও ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছেন।
জারার ভাষ্য অনুযায়ী, মানিক পশারীর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে বাড়িতে একটি কবর খোঁড়া হলেও কয়েকজন সেটি ভরাট করে দেন বলে তাঁর মেয়ে সীমু আক্তার স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। পরে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় কবর খোঁড়ার জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির মেয়ে ও বোনেরাই নতুন করে কবর খোঁড়েন।
তিনি লেখেন, ‘যে কোদাল পাড়ার ছেলেদের হাতে থাকার কথা, সেদিন তা ছিল মৃতব্যক্তির মেয়ে আর বোনেদের হাতে।’
তাসনিম জারা আরও জানান, শেষ পর্যন্ত মাঝরাতের পর পুলিশি পাহারায় ওই কবরে মানিক পশারীকে দাফন করা হয়। পরিবারের সদস্যদের বাইরে সেখানে আর কেউ ছিলেন না বলে তাঁর পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
দাফন নিয়ে বিরোধের প্রসঙ্গে জারা বলেন, ‘দাফন পিরোজপুরে হতে দেওয়া হবে না’-জামায়াতের নেতাকর্মীরা এমনভাবে কথাটি বলেছেন, যেন ওই এলাকার মাটির মালিকানা তাঁদের হাতে। একজন মানুষ নিজের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত হবেন কি না, সেই সিদ্ধান্তও যেন তাঁদের কাছ থেকে নিতে হবে।
জারার মতে, একসময় জামায়াতের নেতাকর্মীদেরও ‘জামাত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’-এমন বক্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এ ধরনের কথা যে অন্যায়, তা তাঁদের বোঝার কথা। কিন্তু ক্ষমতার নাগাল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা সেই অন্যায়ের কথা ভুলে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়েও অবস্থান তুলে ধরেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, কেউ তাঁর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইলে তার সুযোগ রয়েছে। তবে তা যাচাই করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালত আছে। দাফন আটকে দিয়ে কিংবা মাইক হাতে ঘোষণা দিয়ে এ প্রশ্নের মীমাংসা করা যায় না।
তাঁর অভিযোগ, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের এক সহকারী সেক্রেটারি মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে মন্তব্য করেছিলেন এবং তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া ও পিরোজপুরে দাফনের বিরোধিতা করেছিলেন। অথচ দাফনের পর একই নেতা জামায়াতের নেতারা ‘লাশের রাজনীতি করেন না’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে জারার পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
তাসনিম জারা আরও লেখেন, একাত্তরে জামায়াতে ইসলামী দল হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। সেই দলের নেতাকর্মীরাই এখন ঠিক করে দিতে চাইছেন কে মুক্তিযোদ্ধা, কে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, কে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাবেন এবং কার কবর কোথায় হবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট গঠনের সিদ্ধান্তের পর দলটি থেকে পদত্যাগ করেন তৎকালীন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা। পরে তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
