শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধে জেল হত্যা দিবসের প্রদর্শনী স্থগিত সিলেটে মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ননীছড়া দখল-দূষণমুক্ত করার দাবি সুবিপ্রবির শিক্ষার্থীরাই একদিন দেশের নেতৃত্ব দেবে: উপাচার্য বিমানের দাম্মাম রুটে ফ্লাইট শুরু ৭ নভেম্বর সিলেটে গোপনে তৈরি হচ্ছিল নিষিদ্ধ ‘যৌন উদ্দীপক’ পণ্য, ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড সিলেটসহ সারাদেশে গ্যাস বন্ধের বিষয়ে পেট্রোবাংলা বলছে গুজব সিলেটে ময়লার ছবি তুলে জিতে নিন লাখ টাকা: সিসিকের ছবি তোলার প্রতিযোগিতা সিলেটে স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় স্বামীকে হ/ত্যা, গ্রেফ/তার এক দ্বারপ্রান্তে ‘মুরাসু’, চার সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা সৌদি প্রবাসীদের জন্য সরকারের ১৬ বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা

https://www.emjanews.com/

20290

national

প্রকাশিত

০৩ নভেম্বর ২০২৬ ২১:০১

জাতীয়

কোটা ছাড়াই ইতালি যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ২১:০১

ছবি: সংগৃহীত

দালাল ছাড়াই সম্পূর্ণ বিনা খরচে প্রশিক্ষণ নিয়ে বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশিদের জন্য। ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয় অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন করলে দেশটির প্রচলিত অভিবাসন কোটা ‘ডেকরেতো ফ্লাসি’র বাইরে থেকেও কাজের উদ্দেশ্যে ইতালি যাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থীদের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। বছরের যেকোনো সময় আবেদন করা যাবে, নেই নির্দিষ্ট কোনো ‘ক্লিক ডে’।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে ‘ইতালিতে দক্ষ অভিবাসনের জন্য ভাষা, নাগরিক এবং পেশাদার প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়।

সেমিনারে জানানো হয়, বর্তমানে ইতালিতে ২ লাখ ১৭ হাজার বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন। তাঁদের মধ্যে ৮০ হাজারের ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে।

অনুষ্ঠানে ইতালির কর্মী নিয়োগের কোটা ব্যবস্থা ‘ডেকরেতো ফ্লাসি’র তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। তিন বছরে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। বিভিন্ন দেশের জন্য নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী এসব কর্মী নেওয়া হবে। অনিয়মিত অভিবাসীদের ফেরত নিতে সহযোগিতার কারণে বাংলাদেশের জন্যও সংরক্ষিত কোটা রয়েছে।

তবে প্রচলিত কোটা ব্যবস্থার বাইরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে ইতালির অভিবাসন আইনের ‘আর্টিকেল ২৩’। এ ধারার আওতায় ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ও সনদপ্রাপ্ত প্রি-ডিপারচার ট্রেনিং প্রকল্প সম্পন্নকারীরা ‘ডেকরেতো ফ্লাসি’র কোটা ছাড়াই বৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এ প্রশিক্ষণে তিনটি বিষয় বাধ্যতামূলক। এগুলো হলো প্রাথমিক ইতালীয় ভাষা শিক্ষা, ইতালি সম্পর্কে মৌলিক নাগরিক শিক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মক্ষেত্রের পেশাগত দক্ষতা অর্জন। বাংলাদেশে থেকেই পাঁচ থেকে ছয় মাসের এ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। প্রশিক্ষণের জন্য কর্মীদের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না।

অনুষ্ঠানে ফরম্যাটের প্রতিনিধি আন্তোনিও মিলো আর্টিকেল ২৩-এর পাঁচটি সুবিধার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ ব্যবস্থায় প্রচলিত কোটা ছাড়াই ইতালি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণ বিনামূল্যে এবং শুরু থেকেই ইতালি সরকার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মীরা ইতালীয় ভাষা ও সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে দেশটিতে যেতে পারবেন। আর যারা শেষ পর্যন্ত ইতালি যাবেন না, তাঁরাও অর্জিত দক্ষতা বাংলাদেশে কাজে লাগাতে পারবেন।

দূতাবাস জানায়, এ-সংক্রান্ত গাইডলাইন ২০২৩ সালের ৭ জুলাই গৃহীত হয়েছে।

সেমিনারে ইতালি যাওয়ার নামে প্রতারণার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। আয়োজকেরা জানান, ইতালির ভিসার সরকারি ফি ৫০ থেকে ১১৬ ইউরো। এর সঙ্গে ভিএফএসের ৩৮ ইউরো ফি যুক্ত হয়। সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫৪ ইউরো খরচ হয়। অথচ একই ভিসার জন্য দালালেরা ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত নিচ্ছেন। এর বিনিময়ে অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজপত্র ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।

আয়োজকেরা বলেন, আর্টিকেল ২৩-এর প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কোনো খরচ নেই। তাই দালালের পরিবর্তে ইতালি দূতাবাস ও জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বৈধ তথ্য অনুসরণ করা উচিত।

ইতালি পৌঁছানোর আট দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশটির পুলিশ সদর দপ্তর কুয়েশচুরায় গিয়ে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছরের পারমিট দেওয়া হবে, যা নবায়নযোগ্য। পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর স্থায়ী বা অনির্দিষ্ট মেয়াদের পারমিট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ইতালি যাওয়ার সময় কর্মীদের হাতে প্রবাসী কার্ড তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এর মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে। দক্ষ কর্মী অভিবাসনের ক্ষেত্রে বোয়েসেলসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণার্থীরা পাঁচ থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে বাংলা ও ইংরেজির বাইরে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় ভাষায় দক্ষ হয়ে উঠছেন তাঁরা। সরকার এই প্রশিক্ষণ পদ্ধতিকে একটি মডেল হিসেবে বিবেচনা করছে। পাঠ্যক্রমটি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চালুর চেষ্টা করা হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইতালি দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ফেদেরিকো জাম্পারেলি। সূচনা বক্তব্য দেন ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতালি দূতাবাসের মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজার জিউসেপ্পে ডি জিওভান্নি। এ ছাড়া আর্টিকেল ২৩-এর বিভিন্ন প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন ফরম্যাটের মাসিমিলিয়ানো ডি ফুসকো, ফ্রন্টিয়ার স্কিলসের আন্তোনিও মিলো এবং ইউপি রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির ম্যানেজার এন্নিও মিলানো।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) হেড অব প্রোগ্রাম গুঞ্জন ডালাকোটি এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) চিফ অব মিশন ড. লরা নিকোল টম-বন্ডে।

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং আর্টিকেল ২৩-এর আওতায় প্রশিক্ষণ নেওয়া দুটি প্রকল্পের প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। ফ্রন্টিয়ার স্কিলসের ‘টিএএসটিই’ প্রকল্পের প্রশিক্ষণার্থীরা রেস্টুরেন্ট ও হসপিটালিটি খাতে ঢাকা রিজেন্সি হোটেলে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। অন্যদিকে, ইতালির প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফরম্যাটের অধীনে টেক্সটাইল খাতেও একদল শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।