রাশিয়া-ইরানের সামরিক চুক্তির গোপন তথ্য, আলোচনায় ৯০ উৎক্ষেপণযন্ত্র
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ০৯:০৩
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে উন্নত প্রযুক্তির ৯০টি হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের উৎক্ষেপণযন্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা করেছিল রাশিয়া। ফাঁস হওয়া রুশ প্রতিরক্ষা শিল্পের অভ্যন্তরীণ নথিতে উঠে এসেছে এমন তথ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মে মাসে তৈরি একটি উৎপাদন ও সরবরাহ পরিকল্পনায় ‘কে-১০’ কোডনামে ইরানের জন্য এসব উৎক্ষেপণযন্ত্র রপ্তানির আদেশের উল্লেখ রয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের হাতে আসা নথিগুলো সংগ্রহ করেছে ইউক্রেনের বেসরকারি গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ডালাস অ্যানালিটিকস। নথিতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণব্যবস্থা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিমপেলের উৎপাদন পরিকল্পনার তথ্য রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এসব সরঞ্জাম সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। তবে চুক্তি অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত সব উৎক্ষেপণযন্ত্র ইরানে পৌঁছেছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উৎক্ষেপণযন্ত্রগুলো রাশিয়ার এলএমইউআর বা ‘ইজদেলিয়ে ৩০৫’ নামের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের জন্য তৈরি। মূলত আক্রমণকারী হেলিকপ্টার থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রুশ বাহিনী দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আসছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি এপিইউ-এল উৎক্ষেপণযন্ত্রে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা যায়। এটি রাশিয়ার এমআই-২৮ ধরনের আক্রমণকারী হেলিকপ্টারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। ফলে পরিকল্পিত সরঞ্জামগুলো ইরানের সামরিক সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফাঁস হওয়া নথিতে ইরানের জন্য রাশিয়ার আরও সামরিক সরঞ্জাম তৈরির পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ইরানের জন্য ছয়টি ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান তৈরির একটি পৃথক উৎপাদন পরিকল্পনাও রয়েছে। আগে প্রকাশিত এসব বিমান সরবরাহসংক্রান্ত খবরের সঙ্গে নথির তথ্যের মিল পাওয়া গেছে। তবে এসব নথি মূলত উৎপাদন ও সরবরাহের পরিকল্পনার প্রমাণ; সব সরঞ্জাম বাস্তবে ইরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, এমন নিশ্চয়তা দেয় না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও ইরানের সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর ইরান মস্কোকে শাহেদ সিরিজের আক্রমণকারী ড্রোন সরবরাহ করে। পরবর্তী সময়ে রাশিয়া নিজস্ব উৎপাদনব্যবস্থায় এসব ড্রোন তৈরি শুরু করে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করতে সহায়ক তথ্য ও স্যাটেলাইটের ছবি ইরানকে সরবরাহ করেছে রাশিয়া। পাশাপাশি তেহরানের কাছে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন সরবরাহের প্রস্তুতি নিয়েও সতর্ক করেছে ইউরোপের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা।
ফাঁস হওয়া নথির তথ্য সত্য হলে, দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা শুধু ড্রোন ও প্রযুক্তি বিনিময়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ও সামরিক উড়োজাহাজ সরবরাহের ক্ষেত্রেও তা বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে পরিকল্পিত সরঞ্জামগুলোর প্রকৃত সরবরাহের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
