https://www.emjanews.com/

8056

law-justice

আইন আদালত

মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার বিচারে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫ ১২:৩৫

ছবি: সংগৃহিত।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁর আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। রবিবার (৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এ নিয়ে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী খ্যাতিমান সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিশেষজ্ঞ ডেভিড বার্গম্যান তাঁর ফেসবুক পোস্টে বিচার প্রক্রিয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বার্গম্যান বলেন, ‘আজ বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রথম দিন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই বিচারের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠুতা নিয়ে আমার কয়েকটি গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।’

১. এক আইনজীবী, দুই আসামি: স্বার্থের সংঘাত
বার্গম্যান জানান, শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে ট্রাইব্যুনাল যে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে, তিনি দুজনেরই পক্ষে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ এই দুই অভিযুক্তের স্বার্থ পরস্পরবিরোধী হতে পারে। একে অপরের বিরুদ্ধে দায় চাপাতে পারেন-এই বাস্তবতায় প্রত্যেকের জন্য আলাদা আইনজীবী থাকা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন বার্গম্যান।

২. আত্মপক্ষ সমর্থনে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির ঘাটতি
রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মাত্র পাঁচ সপ্তাহ আগে মামলার সব নথিপত্র হাতে পান। এত কম সময়ে, তাও দুইজন পলাতক আসামির পক্ষে যথাযথ আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। তদুপরি, আইনজীবী নিজের মক্কেলের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছেন না। তবুও তিনি শুনানি মুলতবির আবেদন করেননি, যা বার্গম্যানের মতে, একজন স্বাধীন ও সক্রিয় আইনজীবী হলে অবশ্যই করতেন।

৩. সাক্ষ্যের বৈপরীত্য নিয়ে জেরা বন্ধ: ‘দুই মুখো নীতি’র অভিযোগ
প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণে আসামিপক্ষের আইনজীবী যখন সাক্ষীর পূর্ববর্তী বক্তব্য ও আদালতের বর্তমান বক্তব্যের মধ্যে বৈপরীত্য তুলে ধরতে চাইছিলেন, তখন প্রসিকিউশন পক্ষ এবং ট্রাইব্যুনাল তাকে বাধা দেয়। বার্গম্যান অভিযোগ করেন, এটি বাংলাদেশে প্রচলিত বিচারিক প্রথার পরিপন্থী।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার বিচারেও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। তখন বর্তমান চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামসহ জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা এই বিধি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন এবং এটিকে অন্যায় বলেছিলেন। অথচ এখন সেই একই যুক্তি ব্যবহার করে তারাই আসামিপক্ষের জেরা ঠেকাতে চাইছেন, যা বার্গম্যানের মতে, একটি ‘চোখে পড়ার মতো পরিহাস’।

বার্গম্যান তাঁর পোস্টে বিচারপ্রক্রিয়ার এই অসংগতিগুলোকে তুলে ধরে বলেন, এসব প্রশ্ন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।