https://www.emjanews.com/

11999

national

প্রকাশিত

০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:০৭

আপডেট

০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩:৫৬

জাতীয়

বিমান ভ্রমণের জন্য শারীরিকভাবে প্রস্তুত নন বেগম খালেদা জিয়া: এ জেড এম জাহিদ হোসেন

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:০৭

ছবি- সংগ্রহ

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনও স্থিতিশীল নয়। তাই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লন্ডনে নেওয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে বিদেশে নেওয়া সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তাঁর শারীরিক সক্ষমতা ও দীর্ঘ বিমানযাত্রার ধকল নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ের ওপর।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তাঁর ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসজনিত বিভিন্ন জটিলতা ওঠানামা করছে। কিছু সমস্যা নিয়ন্ত্রণে এলেও হঠাৎ করে আবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্যে জানা গেছে, কিডনির সমস্যার কারণে হিমোগ্লোবিন কমে গেলেও এখন কিছুটা বেড়েছে। কিডনির কার্যকারিতা সামান্য উন্নতি হয়েছে এবং ফুসফুসের অবস্থারও কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেছে। তবুও তিনি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন।

এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে বিদেশ পাঠানোর পূর্বনির্ধারিত সময় পেছানো হয়েছে। প্রথমে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) ভোরেই তাঁকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পরে দিনটি পরিবর্তন করে ৭ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। এরপর রাতেই সিদ্ধান্ত বদলে সম্ভাব্য নতুন তারিখ হিসেবে ৯ ডিসেম্বর ঠিক করা হয়। তবে এই তারিখটিও এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

চিকিৎসা–সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে বিদেশ যাত্রার পরিকল্পনা দুই দিন পিছিয়ে ৯ ডিসেম্বর করা হয়েছে। তবে যাত্রা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। গতকাল পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে তাঁর অবস্থায় তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এভারকেয়ার হাসপাতালের বাইরে এক ব্রিফিংয়ে মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও বিএনপির নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বিমান ভ্রমণের জন্য শারীরিকভাবে প্রস্তুত না থাকায় খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিদেশে নেওয়ার সকল প্রস্তুতি আমাদের আছে। যখনই মেডিকেল বোর্ড মনে করবে যে, তাঁকে নিরাপদে ট্রান্সফার করা সম্ভব—তখনই তাঁকে নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কারিগরি সমস্যার কারণে আসতে পারেনি—এটা যেমন সত্য, তেমনি ওই সময়েই মেডিকেল বোর্ডও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তাঁর বিমানযাত্রা নিরাপদ নয়। তাই বিদেশ নেওয়ার প্রক্রিয়া দেরি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও শারীরিক অবস্থাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে।

এ সময় জাহিদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসায় নিয়োজিত দেশি–বিদেশি চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা গত ৬ বছর ধরে নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ম্যাডাম অতীতে আরও খারাপ অবস্থার মধ্য থেকেও সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। তাই আমরা আশাবাদী, ইনশা আল্লাহ এবারও তিনি সুস্থ হয়ে ফিরবেন।’