ছবি: সংগৃহিত
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করা প্রায় ৬৬ শতাংশ শিক্ষার্থী আংশিক বেকারত্বে (আন্ডার এমপ্লয়েড) রয়েছেন- এ তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাম্প্রতিক গবেষণায়। তাঁদের বড় অংশই পছন্দমতো চাকরি না পেয়ে টিউশনি, কল সেন্টার বা কোচিংয়ে খণ্ডকালীন কাজ করছেন।
পূর্ব অভিজ্ঞতার ঘাটতি তাঁদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে বিআইডিএসের বার্ষিক উন্নয়ন সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন’। অধিবেশনটির সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক।
বিআইডিএসের গবেষণা ফেলো তাহরীন তাহরিমা চৌধুরীর উপস্থাপনায় জানানো হয়- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ৫১৫টি কলেজ থেকে স্নাতক করা ১ হাজার ৬৩৯ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে। তথ্য মতে- ৩৪৩ জন কোনো না কোনো কাজে যুক্ত; ১,০৭৮ জন চাকরি খুঁজছেন; ১১৩ জন খণ্ডকালীন কাজে যুক্ত; ৮২ জন কোনো কাজ করছেন না। এর মানে প্রায় ৬৬ শতাংশ স্নাতকই আংশিক বেকার।
গবেষণা আরো দেখায়- ২৪% চাকরিজীবী, ১.৬% নিজের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, ৭% টিউশনি করেন, ৫.৫% পার্টটাইমে যুক্ত, ৩৩% চাকরির খোঁজে এবং ২৯% দৈনিক মজুরির কাজে যুক্ত।
গবেষণায় বলা হয়, যদিও আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করলেই বেকার না ধরা হয়, কিন্তু এই স্নাতকেরা নিজেদের বাস্তবে ‘বেকার’ হিসেবেই মনে করেন। তাঁদের মধ্যে ৬১ শতাংশের কোনো পূর্ব কর্ম-অভিজ্ঞতা নেই এবং ৫৫ শতাংশ আইসিটি প্রশিক্ষণবিহীন।
গবেষকেরা নীতিসুপারিশ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই হাজারের বেশি কলেজের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ জোরদার করার পরামর্শ দেন, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সময় থেকেই অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।
২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬ শতাংশ স্নাতক ৩ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত বেকার থাকেন।
এদিকে সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের শ্রমবাজার–বিষয়ক অধিবেশনে বিআইডিএসের জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো বদরুন্নেসা আহমেদের উপস্থাপনায় জানা যায়- ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত শহরে শ্রমিকের বেতন বছরে গড়ে ১১% বৃদ্ধি পেলেও, গ্রামে এই হার মাত্র ৪%।
প্রতিবেদন তুলে ধরে- শহরের শ্রমিকদের মাসিক গড় বেতন ৮,৯৪৫ টাকা এবং গ্রামীণ শ্রমিকদের গড় বেতন ৩,৩৯০ টাকা; অর্থাৎ শহুরে শ্রমিকেরা গড়ে ২১.৬% বেশি মজুরি পান, যদিও কাজ করেন মাত্র ৫% বেশি সময়।
গবেষণা বলছে, অর্থনৈতিক সুবিধা মূলত মহানগরেই সীমাবদ্ধ, ছোট শহরগুলো পিছিয়ে পড়ছে। এতে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের জন্য ছোট শহরগুলোতে অবকাঠামো, শিল্প ও সেবা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ অধিবেশনে নারীদের কর্মপরিবেশ নিয়ে কাশফী রায়ান এবং কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গোলাম নবি মজুমদার উপস্থাপনা করেন।
