https://www.emjanews.com/

12872

international

প্রকাশিত

০৭ জানুয়ারী ২০২৬ ২০:০৪

আন্তর্জাতিক

‘মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় ট্যালেন্ট ইকোসিস্টেম শক্তিশালীকরণে জনগণই মূল ভিত্তি’

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ ২০:০৪

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় ট্যালেন্ট ইকোসিস্টেমকে আরও সুসংহত ও কার্যকর করতে ট্যালেন্ট কর্পোরেশন মালয়েশিয়া বেরহাদ (ট্যালেন্টকর্প)-এ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শন ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপমন্ত্রী ওয়াইবি দাতুক খাইরুল ফিরদাউসের সঙ্গে এই সফরে অংশগ্রহণকারীরা সংস্থাটির করপোরেট ব্রিফিং গ্রহণ করেন এবং সাম্প্রতিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।

এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের শ্রমবাজারকে আরও শক্তিশালী করতে গৃহীত কৌশলগত উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা। বিশেষ করে যুবসমাজ, নারী ও ভেটেরানদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, কেসুমা (মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়) ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে জনগণ। যখন মালয়েশিয়ার নাগরিকরা সহজে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পায়, প্রাসঙ্গিক দক্ষতায় প্রশিক্ষিত হয় এবং উৎপাদনশীল থাকতে প্রয়োজনীয় সহায়তা লাভ করে- তখন ব্যবসা প্রসারিত হয় এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও স্থিতিশীল ও টেকসই হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে ট্যালেন্টকর্প একটি সমন্বিত রাষ্ট্রীয় ট্যালেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংস্থাটির কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে শিক্ষার্থী, গ্র্যাজুয়েট, পেশাজীবী, নারী, ভেটেরান, প্রবাসী ডায়াসপোরা এবং বিদেশি উচ্চদক্ষ ট্যালেন্ট। লক্ষ্য হলো মালয়েশিয়াকে একটি গতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক ট্যালেন্ট হাবে পরিণত করা।

বক্তারা বলেন, প্রাথমিক কর্মঅভিজ্ঞতা অর্জন সহজ করতে ট্যালেন্টকর্প ৩০ মিলিয়ন রিঙ্গিত বরাদ্দে ‘লার্জ অ্যান্ড মিডিয়াম ইন্ডাস্ট্রি ট্রেনিং ম্যাচিং গ্র্যান্ট (LiKES)’ চালু করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার স্থানীয় প্রশিক্ষণার্থী উপকৃত হবেন। পাশাপাশি আবেদন প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর করা হয়েছে- আগে যেখানে সিদ্ধান্ত পেতে সর্বোচ্চ ৯০ দিন সময় লাগত, সেখানে এখন ১৪ কর্মদিবসের মধ্যেই সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থীর জন্য অগ্রিম ২,০০০ রিঙ্গিত প্রদানের ঘোষণাও দেওয়া হয়।

বৈঠকে নিয়োগকর্তাদের ট্যালেন্টকর্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। মালয়েশিয়ান ট্যালেন্টে বিনিয়োগে নিয়োগকর্তারা এগিয়ে এলে মাদানি সরকার সুস্পষ্ট নীতি ও বাস্তবসম্মত বাস্তবায়নের মাধ্যমে পূর্ণ সমর্থন দেবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।

এদিকে, মালয়েশিয়ায় ডেটা সেন্টার খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ দেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিভাদের জন্য উচ্চদক্ষ কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছেন মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি রামানন রামাকৃষ্ণন।

পেটালিং জয়ার ট্যালেন্টকর্প কার্যালয়ে প্রথম সরকারি সফরকালে তিনি বলেন, ‘দেশে নতুন ডেটা সেন্টার স্থাপনের ফলে আঞ্চলিক পর্যায়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং এই খাতে স্থানীয় প্রতিভাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজে যুক্ত করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন দেশীয় দক্ষ জনবল রয়েছে, তখন বিদেশি বিশেষজ্ঞের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। আমরা স্থানীয় প্রতিভাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে উৎপাদনশীল করে তুলছি।’

মন্ত্রী জানান, বিদেশে কর্মরত মালয়েশিয়ান নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে উচ্চদক্ষ পদ, প্রতিযোগিতামূলক বেতন কাঠামো এবং স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের পারিবারিক বাস্তবতা ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

উল্লেখ্য, ক্লাউড কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর কাজের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে মালয়েশিয়ায় ডেটা সেন্টার বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশজুড়ে ১৫টি ভিন্ন স্থানে মোট ১১৯টি নিবন্ধিত ডেটা সেন্টার কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।