শিরোনাম
সিলেটে হঠাৎ চিরুনি অভিযানে পুলিশ: ৪ ঘন্টায় আ/টক ১১০ জন আবুল হোসেন হত্যা মামলা: আরও দুই আসামি গ্রেফতার, কারাগারে প্রেরণ সিলেটসহ আট জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা রপ্তানি বাড়াতে চামড়া শিল্পে ২৩ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী ৪,৮০০ ‘অবৈধ অভিবাসীকে’ বাংলাদেশে ফেরত, হোল্ডিং সেন্টারে আরও ৮৩৬ জন: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী  ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, শিশুসহ নিহ.ত ৪, আহ.ত অন্তত ৪০ সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সিলেটজুড়ে ব্যাপক অভিযানে আ/টক ১৭১: প্রায় ২শ গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে দুই চেয়ারম্যানের সমর্থকদের সংঘ.র্ষ, ওসিসহ আহ.ত অর্ধশতাধিক রাত ১০ টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়ীদের

https://www.emjanews.com/

12947

politics

প্রকাশিত

১০ জানুয়ারী ২০২৬ ২১:০৭

রাজনীতি

হবিগঞ্জ–৪

ধানের শীষে ঝুঁকছে চা শ্রমিকরা

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ২১:০৭

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই দেশজুড়ে নির্বাচনী উত্তাপ ও আলোচনা বাড়ছে। গ্রাম থেকে শহর, হাটবাজার থেকে চা বাগান-সবখানেই ভোটের হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। এর ব্যতিক্রম নয় হবিগঞ্জ-৪ আসনের অন্তর্গত মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলা। বিশেষ করে এই দুই উপজেলার প্রায় ৩০টি মুল ও ফাঁড়ি চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যেও এবার নির্বাচন নিয়ে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মাধবপুর উপজেলায় রয়েছে ৬টি এবং চুনারুঘাট উপজেলায় রয়েছে ২৪টি মুল ও ফাঁড়ি চা-বাগান। এসব বাগানে বসবাসরত হাজারো শ্রমিক আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচিত। চা- শ্রমিকরা সাধারণত সহজ-সরল, পরিশ্রমী ও সীমিত আয়ের মানুষ। দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় তারা নানা সংকটের মধ্য দিয়ে চলেন। ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার অভাব তাদের দীর্ঘদিনের বাস্তবতা।

এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চা বাগানের শ্রমিকরা কোন প্রার্থীকে ভোট দেবেন- তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চা বাগান জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এলেও এবারের রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন এসেছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় শ্রমিকদের বড় একটি অংশ এবার দল নয়, ব্যক্তিকে বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

চা-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সলের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং ধানের শীষ প্রতীকের দিকে ঝুঁকছেন। তাদের যুক্তি- সৈয়দ মোঃ ফয়সল একজন সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। দল-মত, ধর্ম কিংবা জাতপাত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। অতীতেও তিনি ও তার পরিবার চা শ্রমিকদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে শ্রমিকদের অভিমত।

নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক নেতা খেলু নায়েক বলেন, ‘সৈয়দ মোঃ ফয়সল ও তাঁর পরিবার আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। আমাদের আপদে-বিপদে আমরা সব সময় সায়হাম পরিবারকে পাশে পেয়েছি। শুধু কথা নয়, তারা কাজ করে দেখিয়েছেন। আমাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য সায়হাম শিল্প কারখানায় বহু চা শ্রমিক নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাই দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে এবার বাগানের মানুষ বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সলকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে আগ্রহী।’

সুরমা চা বাগানের শ্রমিক সুশীল কর্মকার বলেন, ‘চা বাগান এলাকার মানুষ এখনো শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনেক পিছিয়ে। আমাদের সন্তানদের ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই, অসুস্থ হলে ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। আমরা আশা করছি সৈয়দ মোঃ ফয়সল এমপি নির্বাচিত হলে তিনি এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। তিনি একজন সৎ ও দানশীল মানুষ- এই বিশ্বাস থেকেই আমরা তাঁকে সমর্থন করছি ‘

লালচান্দ চা বাগানের শ্রমিক নেতা ভারত মুন্ডা বলেন, ‘আমরা আদিবাসী মানুষ, আমাদের কথা শোনার লোক খুব কম। সৈয়দ মোঃ ফয়সল আগে থেকেই আমাদের খোঁজখবর নেন। তিনি নির্বাচিত হলে চা বাগানের শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে সংসদে কথা বলবেন- এই আশায় আমরা ধানের শীষের দিকে ঝুঁকছি।’

আমু চা বাগানের শ্রমিক শ্যামলী ভুমিজ বলেন, ‘আমরা চা শ্রমিকরা বছরের পর বছর অবহেলিত। আমাদের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, হাসপাতাল- সবকিছুরই অভাব। কিন্তু সৈয়দ মোঃ ফয়সলকে আমরা কাছে পেয়েছি। তিনি আমাদের অনুষ্ঠানে আসেন, সমস্যার কথা শোনেন। তিনি এমপি হলে চা বাগান এলাকার উন্নয়ন হবে- এই বিশ্বাস থেকেই আমরা এবার ধানের শীষে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।’

এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেন, ‘চা শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ তারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। আমি নির্বাচিত হলে চা বাগান এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, যোগাযোগ ও শ্রমিক কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। দল নয়, মানুষই আমার রাজনীতির মূল শক্তি।’