ফেসবুকে হত্যার হুমকির অভিযোগ সিলেট মহানগর বিএনপি নেতা কয়েস লোদীর
মাজারের দানবাক্স ও ডিসি বদলি ইস্যুর সমালোচনার মধ্যেই হুমকি; থানায় অভিযোগ, পুলিশ কমিশনারকে পাঠানো হয়েছে আইডির লিংক
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ ২০:০১
ছবি: রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
কয়েস লোদী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে এই হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা আমি জানি না। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। পাশাপাশি পুলিশ কমিশনারের কাছে হুমকি দেওয়া আইডিগুলোর লিংক পাঠিয়েছি।’
জানা গেছে, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে তালা লাগানো এবং জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের বদলি ইস্যুতে গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি থেকে কয়েস লোদীর সমালোচনা করা হচ্ছিল।
মাজারের দানের ডেগ সিলগালা করার পর এক প্রতিক্রিয়ায় কয়েস লোদী বলেছিলেন, মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগকে তিনি সমর্থন করেন। তবে মাজার কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়েই এ কাজ করা হলে তা আরও সম্মানজনক ও গ্রহণযোগ্য হতো।
তার এই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ওই ঘটনার জের ধরেই তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে কয়েস লোদী বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে আমাকে নিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কেন বারবার আমাকেই টার্গেট করা হচ্ছে, তা বুঝতে পারছি না।”
তিনি আরও বলেন, “জেলা প্রশাসক নিয়োগ বা বদলি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। অথচ এসব বিষয়েও আমাকে দায়ী করা হচ্ছে।”
মাজার ইস্যুতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু বলেছি, মাজার কর্তৃপক্ষও স্বচ্ছতার পক্ষে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই উদ্যোগটি নেওয়া যেত। আমি জেলা প্রশাসক হলে এভাবেই কাজ করতাম।’
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের তিনটি ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে মাজারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। প্রশাসন জানিয়েছিল, মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেন। এর মধ্যেই জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে রোববার ও সোমবার সিলেটে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার সিলেট ছাড়ার আগে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনার ব্যবস্থা করেন।
