ছবি: সংগৃহীত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ছয় দিন বাকি, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উত্থাপিত হয়েছে নতুন বিতর্ক। ক্রিকেটারদের স্বতন্ত্র অধিকার- নাম, ছবি, ইমেজ এবং অংশগ্রহণ শর্ত- কে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)।
ডব্লিউসিএ অভিযোগ করেছে, আইসিসি ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য খেলোয়াড়দের পাঠানো নতুন শর্তাবলি ২০২৪ সালের চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং ‘শোষণমূলক’। ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মোফাট বলেন, “আইসিসির শর্তগুলো খেলোয়াড়দের অধিকারকে মারাত্মকভাবে খর্ব করছে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে দুর্বল খেলোয়াড়রা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।”
আইসিসি দাবি করেছে, ২০২৪ সালের চুক্তি কেবল আটটি বোর্ডের জন্য প্রযোজ্য (অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড)। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বোর্ড ডব্লিউসিএকে স্বীকৃতি দেয় না।
মুখ্য বিরোধ দেখা দিয়েছে খেলোয়াড়দের সম্মতির অধিকার নিয়ে। নতুন শর্তে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়দের সম্মতি ছাড়াই আইসিসি বা বোর্ড তাদের ছবি, তথ্য এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্স ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়া, কোনো খেলোয়াড় বিশ্বকাপে অংশ নিলে ধরা হবে যে তিনি সব শর্ত মেনে নিয়েছেন।
টম মোফাট অভিযোগ করেছেন, “আইসিসি ও সদস্য বোর্ডগুলো খেলোয়াড়দের প্রাপ্য সুরক্ষা সরিয়ে দিতে চাইছে এবং কার্যত খেলোয়াড়দের ‘মালিকানা’ নিতে চাচ্ছে। অপেক্ষাকৃত কম বেতন পাওয়া বা অপেশাদার খেলোয়াড়রা সবচেয়ে বেশি শোষণের শিকার হবেন।”
ডব্লিউসিএ বলেছে, তারা বিশ্বকাপ পণ্ড করতে চায় না, তবে আইসিসির শর্ত খেলোয়াড়দের অধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। বিশেষ করে অনেক খেলোয়াড়ের আয়ের প্রধান উৎস হওয়ায় এই বিতর্ক তাদের ভবিষ্যতের জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে।
