https://www.emjanews.com/

13560

sylhet

প্রকাশিত

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৭:০৮

আপডেট

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৭:১০

সিলেট

নির্বাচনী ইশতেহার : সিলেটে ‘মনোরেল’সহ ১১ দফা রূপরেখা দিলেন মুক্তাদির

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৭:০৮

সিলেট-১ (সদর ও মহানগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় নগরীর শাহী ঈদগাহস্থ প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় মিতা কমিউনিটি সেন্টারে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ‘সিলেট উন্নয়ন ও রূপান্তর ঘোষণাপত্র’ শীর্ষক এই ইশতেহার প্রকাশ করেন তিনি।

ইশতেহারে কর্মসংস্থান, মানবিক উন্নয়ন ও টেকসই নগরায়ণের রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়। সিলেটের বিশিষ্ট গবেষক, পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে ‘আকাঙ্ক্ষার সিলেট’ নামে একটি উন্নয়নমিত্র পরামর্শক কমিটি গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, “এই ইশতেহার কোনো গতানুগতিক প্রতিশ্রুতি নয়, এটি সিলেটের মানুষের স্বপ্ন পূরণের দলিল।”

ঘোষিত ইশতেহারে ১১টি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিলেটকে আইটি ও ইনোভেশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুক্তাদির জানান, আইটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সাশ্রয়ী ভাড়ায় বিশেষায়িত ভবন নির্মাণ এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া শহরের একটি নির্দিষ্ট স্থানে তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সরকারিভাবে কো-ওয়ার্কিং স্পেস স্থাপন এবং স্টার্টআপগুলোর জন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বেকার সমস্যা সমাধানে ওয়ান স্টপ ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের কথাও বলেন তিনি।

কৃষি আধুনিকায়নের বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী বলেন, শুকনো মৌসুমে সেচের অভাব দূর করতে পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি অনুসরণ করে কয়েক লক্ষ টন বাড়তি ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি পণ্যের অপচয় রোধে হিমাগার স্থাপন এবং মৎস্য চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

সিলেটের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার অঙ্গীকার করেন খন্দকার মুক্তাদির। শাহজালাল (রহ.), শাহপরান (রহ.)-সহ সিলেটের ৩৬০ আউলিয়ার মাজার এবং মরমী সাধকদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোকে কেন্দ্র করে হেরিটেজ টুরিজম গড়ে তোলার কথা জানান তিনি। একই সাথে খাসিয়া, মনিপুরী ও চা শ্রমিকদের সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষায়িত পুলিশি টহল চালুর প্রতিশ্রুতি দেন।

চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং বাগানগুলোতে পর্যাপ্ত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন তিনি। নারীবান্ধব শহর গড়তে নারীদের জন্য নিরাপদ গণপরিবহন, কর্মজীবী নারীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার এবং জনসমাগমস্থলে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণের ঘোষণা দেন। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও বিশেষায়িত মার্কেট চালুর কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনায় সিলেটকে একটি আন্তর্জাতিক ডেন্টাল টুরিজম হাব হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখান মুক্তাদির। তিনি বলেন, প্রবাসী ও বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আধুনিক ডেন্টাল ও সার্জারি সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্যখাতে প্রবাসী বিনিয়োগ বাড়াতে ‘ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজরি বোর্ড’ গঠনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

নগরীর যানজট নিরসনে মাল্টি-লেভেল পার্কিং সুবিধা, চলমান বাইপাস সড়ক দ্রুত সম্পন্ন করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য শাটল সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান বিএনপি প্রার্থী। এমনকি সিলেট নগরীতে মনোরেল চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মতো আধুনিক পরিকল্পনার কথাও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া এবং মাদকের বিস্তার রোধে শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। মাদকাসক্তদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে আধুনিক পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন এবং প্রতিটি এলাকায় খেলাধুলা জোরদার করার কথা বলেন। এছাড়া ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নীতিমালার আওতায় আনা এবং তাদের সম্মানী বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচিত হলে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতায় এই রূপরেখা বাস্তবায়ন করে সিলেটকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করবেন। এ সময় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীসহ সিলেটের বিশিষ্ট নাগরিক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।