ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় এক বিশেষ রাজনৈতিক তাৎপর্য পেয়েছে সিলেট। একদিকে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে এই নগরী থেকে, অন্যদিকে একই নগরীতে এসে শেষ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণা।
আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সিলেট নগরীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর শেষ নির্বাচনী জনসভা। সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এ জনসভা বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে শুরু হবে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পাশাপাশি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারাও এতে বক্তব্য রাখবেন।
এর আগে চলতি নির্বাচনী কার্যক্রমে বিএনপির প্রচারণার সূচনা হয়েছিল সিলেট থেকেই। দীর্ঘ ২২ বছর পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ২১ জানুয়ারি রাতে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে সিলেটে আসেন। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি হযরত শাহজালাল মাজার এবং পরে হযরত শাহপরাণ মাজার জিয়ারত করেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে অপেক্ষমান বিপুল সংখ্যক মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান। মাজার জিয়ারত শেষে রাতেই তিনি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিরাইমপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে যান এবং পরদিন ২২ জানুয়ারি বেলা ১১টায় আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।
তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমান একজন চিকিৎসক এবং তার জন্ম সিলেটে। তার বাবা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা যায়।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পারিবারিক পরিচয়ও যুক্ত রয়েছে সিলেট বিভাগের সঙ্গে। তিনি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মো. আবরু মিয়া এবং মাতার নাম খাতিবুন নেছা। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তার স্ত্রী ডা. আমেনা শফিক নামে পরিচিত আমেনা বেগম একজন চিকিৎসক। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কালাইউরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর এটিই ডা. শফিকুর রহমানের প্রথম ও শেষ সিলেট সফর। শনিবার সকালে তিনি হবিগঞ্জে একটি জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এরপর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া হয়ে বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় যোগ দেবেন। সিলেটের জনসভায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার মোট ১১টি আসনের জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়েই শেষ হবে তার দেশব্যাপী নির্বাচনী সফর।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনসভাকে ঘিরে মঞ্চ, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শন করেন জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতারা।
এসএমপির এডিসি মিডিয়া (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, জনসভাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ও মহানগর ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা সম্পন্ন করার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
একদিকে বিএনপির প্রচারণার সূচনা, অন্যদিকে জামায়াতের প্রচারণার সমাপ্তি। একই মাঠে, একই নগরীতে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা ও সমাপ্তি সিলেটকে নিয়ে এসেছে নির্বাচনী রাজনীতির বিশেষ কেন্দ্রবিন্দুতে। তাছাড়া সিলেটের সঙ্গে দুজনেরই রয়েছে পারিবারিক যোগসূত্র। দুজনের স্ত্রীই চিকিৎসক। আবার নামের শেষেও ‘রহমান’। এই মিল থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে ‘দামান্দ’ ও দুই ‘রহমানের’ প্রসঙ্গ। এখন প্রশ্ন সিলেটি দুই দামান্দের কে হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী?
