নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পৃথক পাঁচ মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সেগুলো হলো—ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা।
হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অপর মামলাটি হয়েছে সদর মডেল থানায়।
আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট সারা হোসেন ও মোতাহার হোসেন সাজু।
গত বছরের ৯ মে ভোর রাত ৩টার দিকে শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেৎপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাকে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় জামিন দেন।
এরপর আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়। পরে ১৮ নভেম্বর তাকে আরও পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এদিকে, কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি ছয় মাসের জামিন পেয়েছেন। একই সঙ্গে তার ওপর প্রদত্ত জরিমানা স্থগিত করা হয়েছে।
নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে বদির করা আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে বুধবার হাইকোর্টের একক বেঞ্চ, বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে, এই আদেশ দেন।
বদির আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকা লিনা জানান, আদালতের এই আদেশের ফলে তার মুক্তিতে কোনো আইনি বাধা নেই।
অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, যে ধারায় এমপি বদিকে খালাস দেওয়া হয়েছে, তার বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন।
আদালতে আপিলকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহবুব আলী, এবং দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
এর আগে, ২ নভেম্বর, নিম্ন আদালত সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়, যা না দিলে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড কার্যকর হবে। তবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছিল।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে এমপি বদির বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুদক। গত বছরের ৭ মে দুদক এই মামলায় অভিযোগপত্র দেয়। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।
