ছবি: সংগৃহীত
দুয়ারে কড়া নাড়ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। আর মাত্র ৫৩ দিন পর যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসতে যাচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। তবে এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে দর্শকদের জন্য খরচের চাপ যেন ক্রমেই বাড়ছে। টিকিটের দাম ২০২২ বিশ্বকাপের তুলনায় বহুগুণ বাড়ার পর এবার পরিবহন খরচ নিয়েও তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে ম্যাচ দেখতে যাওয়া দর্শকদের ট্রেনে যাতায়াতে গুনতে হবে ১৫০ ডলার, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে একই পথে ভাড়া মাত্র ১২ দশমিক ৯০ ডলার। অর্থাৎ প্রায় ১২ গুণ বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে বিশ্বকাপ উপলক্ষে। এই ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
নিউ ইয়র্ক থেকে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দূরত্ব মাত্র ৩৬ মাইল বা ৫৬ কিলোমিটার। এই স্টেডিয়ামে ফাইনালসহ মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাউন্ড ট্রিপ টিকিটের জন্য ১৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র ৪০ হাজার ট্রেন টিকিট পাওয়া যাবে।
ট্রেনের পাশাপাশি গাড়িতে যাতায়াত করলেও খরচ কম নয়। প্রতিবন্ধী দর্শকদের জন্য স্টেডিয়ামে পার্কিং ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৫ ডলার। নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা গাই ডিক্সন এএফপিকে বলেন, “এটা লজ্জাজনক। ভক্তদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়া হচ্ছে।”
নিউজার্সির গভর্নর মিকি শেরিল এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের দর্শক পরিবহনে ফিফা কোনো অর্থ দিচ্ছে না। তার দাবি, এই আয়োজন পরিচালনায় এনজে ট্রানজিটের অন্তত ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার খরচ হবে, যেখানে ফিফা আয় করবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমার মনে করেন, এই অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় ফিফারই বহন করা উচিত। তবে ফিফা কর্তৃপক্ষ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এমন দাবি “নজিরবিহীন” এবং তারা একটি অলাভজনক সংস্থা।
সমালোচনার ঝড় উঠেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ফ্রান্সের সমর্থক সংগঠন এই মূল্যকে “সম্পূর্ণ পাগলামি” বলে মন্তব্য করেছে। অন্যদিকে নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল বলেছেন, এত কম দূরত্বে ট্রেন ভাড়া ১০০ ডলারের বেশি হওয়া অস্বাভাবিক।
ইংল্যান্ডের ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধানও কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, “এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, সবই ভক্তদের ঠকানোর মতো মনে হচ্ছে।”
বিশ্বকাপ ঘিরে এমন বাড়তি খরচের চাপ শেষ পর্যন্ত দর্শক উপস্থিতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
