https://www.emjanews.com/

15074

politics

প্রকাশিত

১৮ এপ্রিল ২০২৬ ২২:০৪

রাজনীতি

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ২২:০৪

ছবি: সংগৃহীত

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

সমাবেশ শেষে গণমিছিলটি বিজয়নগর থেকে কাকরাইল ও নাইটিংগেল মোড় হয়ে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-এর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, দলীয় পেটুয়া বাহিনী দিয়ে জনগণকে দমিয়ে রাখা যায় না এবং যাবে না। তিনি বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে নয়, জনসমর্থন দিয়েই ক্ষমতায় টিকে থাকতে হয়।’ সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করলে কোনো সরকারই টিকে থাকতে পারবে না।

সমাবেশ পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, দেশে গণতন্ত্রের পরিবর্তে ‘জিয়াতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণ করা হয়েছে। তিনি জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, `মানুষ তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াচ্ছে, অথচ সরকার বলছে সংকট নেই।'

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বর্তমান সরকারের আচরণে পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই, বরং আগের সরকারের ধারাবাহিকতাই দেখা যাচ্ছে।

খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী অভিযোগ করেন, জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে নতুন করে ‘নব্য ফ্যাসিবাদ’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। একইভাবে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইযহার বলেন, দেশে আবারও ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম বলেন, কৃত্রিম জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। তিনি দ্রুত সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

জাতীয় গণতন্ত্রী পার্টির (জাগপা) নেতা ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সরকার সংকট না থাকার কথা বললেও বাস্তবে মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে।’

এছাড়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চানও সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।

সমাবেশ শেষে জামায়াত নেতা মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল শান্তিপূর্ণ গণমিছিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জনগণের রায় মেনে নিয়ে দেশকে সংকট ও সংঘর্ষের দিকে ঠেলে না দেওয়াই সরকারের উচিত।’

বিক্ষোভ সমাবেশ ঘিরে রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা গেলেও কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।