যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ম/র/দে/হ উ/দ্ধা/র: বৃষ্টিও বেঁচে নেই, দাবি ভাইয়ের
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩৪
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তার রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহ (২৬)কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকা থেকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)-এর শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রমাণ নষ্ট করা এবং অনুমোদনহীনভাবে মরদেহ সরানো বা লুকানোর মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।
মরদেহ উদ্ধার হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ লেক ফরেস্ট এলাকার একটি বাড়ি থেকে ‘ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স’ কল পান। সেখানে পৌঁছালে হিশাম দরজা বন্ধ করে আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করেন। পরে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট টিম তলব করা হয় এবং হিশাম সোয়াটের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। গ্রেফতারের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাকে হাতে তোয়ালে জড়িয়ে পুলিশকে আত্মসমর্পণ করতে দেখা যায়।
হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের দফতর জানিয়েছে, জামিলের সঙ্গে নিখোঁজ আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির খোঁজ মেলেনি। পুলিশ তাকে উদ্ধারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে।
নিহত জামিল ইউএসএফের ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডির শিক্ষার্থী ছিলেন, আর নাহিদা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী। তাদের দুজনকে শেষবার ১৬ এপ্রিল দেখা গিয়েছিল।
শেরিফের অফিস জানিয়েছে, গ্রেফতার হিশামের বিরুদ্ধে ছয়টি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক সহিংসতা, সাধারণ প্রহার, কাউকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা, প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা, কারও মৃত্যু সংবাদ পুলিশকে না জানানো এবং মৃতদেহ বেআইনিভাবে সরানো বা নাড়াচাড়া করা।
অপরদিকে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক ফেসবুক পোস্টে নিখোঁজ অপর শিক্ষার্থী বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত লেখেন, ‘আমাদের বোন আর আমাদের মাঝে নেই, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাকে প্রান্ত বলেন, ‘পুলিশ আমাকে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানায়। তারা জানান, বাসার ভেতরে রক্তের মধ্যে পাওয়া মৃতদেহের একটি অংশের সঙ্গে ডিএনএ মিল পাওয়া গেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ মরদেহ পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
