শিরোনাম
সিলেটে ২৪ ঘন্টায় ৩ শিশুর মৃ/ত্যু: হাম শনাক্ত ২৩ জনের সিলেটে তরমুজক্ষেতের ‘ক্লুলেস মা/র্ডা/র’: একজন র‌্যাবের জালে সিলেটে ৮০ কিলোমিটার বেগে হতে পারে কালবৈশাখী ঝড় ধেয়ে আসছে বৃষ্টি বলয়, সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকবে সিলেটে ‘আমেরিকান ড্রিম’ ম্লান! যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কথা ভাবছেন ৪০ শতাংশ ভারতীয় শনিবার সিলেটের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রবাস জীবনের সংগ্রাম শেষে ন্যায়বিচার: ক্ষতিপূরণ পেলেন বাংলাদেশি সুনামগঞ্জে আকস্মিক বন্যার আভাস, পাকা ধান দ্রুত কাটার নির্দেশনা জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

https://www.emjanews.com/

15205

surplus

প্রকাশিত

২৪ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১১

অন্যান্য

প্রবাস জীবনের সংগ্রাম শেষে ন্যায়বিচার: ক্ষতিপূরণ পেলেন বাংলাদেশি

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১১

ছবি: আহমাদুল কবির।

দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবন কাটানোর পর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বাসিন্দা ফরিদ মিয়া। জীবনের কঠিন এক অধ্যায় পেরিয়ে তিনি শুধু শারীরিক কষ্টই সহ্য করেননি, বরং আইনি লড়াই চালিয়ে গিয়ে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ আদায়েও সফল হয়েছেন। তার এই ফিরে আসা শুধু পরিবারের জন্য স্বস্তির নয়, প্রবাসীদের জন্যও এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের সার্বিক সহযোগিতায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত ১৭ এপ্রিল দেশে ফেরেন ফরিদ মিয়া। বুধবার (২২ এপ্রিল) কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

হাইকমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের জুন মাসে মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর অঙ্গরাজ্যের পোর্ট ক্লাং এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন ফরিদ মিয়া। দুর্ঘটনাটি এতটাই গুরুতর ছিল যে এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকতে হয়। দুর্ঘটনার পরপরই তাকে স্থানীয় একটি নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়, যেখানে মাসের পর মাস চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয় তাকে।

চিকিৎসার দীর্ঘ সময়ে ফরিদ মিয়ার জীবন হয়ে ওঠে অনিশ্চয়তায় ভরা। একদিকে শারীরিক যন্ত্রণা, অন্যদিকে আর্থিক সংকট সব মিলিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন তিনি। তবে হাল ছাড়েননি। সুস্থ হওয়ার পাশাপাশি তিনি ন্যায়বিচারের আশায় মালয়েশিয়ার আদালতের দ্বারস্থ হন।

আইনি প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে মামলার কার্যক্রম চলতে থাকে। এই সময়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন তাকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা, পরামর্শ এবং নানাবিধ সহযোগিতা প্রদান করে। হাইকমিশনের সক্রিয় ভূমিকার ফলে মামলাটি সঠিকভাবে পরিচালিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত ফরিদ মিয়া ক্ষতিপূরণ আদায়ে সফল হন।

হাইকমিশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রবাসীদের যে কোনো ধরনের বিপদে পাশে দাঁড়ানো তাদের দায়িত্বের অংশ। ফরিদ মিয়ার ঘটনায়ও তারা শুরু থেকেই আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে গেছেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত, আইনজীবীর সঙ্গে সমন্বয় এবং আদালতের কার্যক্রমে সহায়তা সবকিছুতেই হাইকমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

দীর্ঘ চিকিৎসা ও আইনি লড়াই শেষে শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হয়ে অবশেষে দেশে ফেরার সুযোগ পান ফরিদ মিয়া। গত ১৭ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছান। প্রিয়জনদের কাছে ফিরে আসতে পেরে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

ফরিদ মিয়ার এই অভিজ্ঞতা প্রবাসীদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিদেশে কর্মরত অবস্থায় যে কোনো দুর্ঘটনা বা সমস্যার সম্মুখীন হলে আইনি সহায়তা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা কতটা জরুরি তা তার ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে।

অনেকে বলছেন, অনেক প্রবাসী শ্রমিক দুর্ঘটনার শিকার হলেও আইনি জটিলতার ভয়ে বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন না। ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। কিন্তু সঠিক সহায়তা পেলে এবং ধৈর্য ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে গেলে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব। ফরিদ মিয়ার ঘটনাটি তার বাস্তব উদাহরণ।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের এই উদ্যোগ প্রবাসীদের আস্থার জায়গাকে আরও শক্তিশালী করেছে। প্রবাসীদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের সক্রিয় ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফরিদ মিয়ার জীবনের এই অধ্যায় একদিকে যেমন বেদনার, অন্যদিকে তেমনি প্রেরণার। দুর্ঘটনার বিভীষিকা, দীর্ঘ চিকিৎসা, আইনি জটিলতা সবকিছু পেরিয়ে তিনি আজ নিজের প্রাপ্য অধিকার আদায় করে দেশে ফিরেছেন। তার এই সংগ্রামী পথচলা প্রমাণ করে, প্রতিকূলতার মাঝেও দৃঢ় মনোবল ও সঠিক সহায়তা থাকলে ন্যায়বিচার অর্জন সম্ভব।