সিলেটের গোয়াইনঘাটে তরমুজক্ষেতের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মামলায় পলাতক আসামি আলী হোসেন (২০) মানিকগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯ ও র্যাব-৪ যৌথ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে।
গত ৫ মার্চ রাতে তরমুজক্ষেতের পাহারায় থাকা ইয়াহিয়া (২২) নামে ভিকটিমকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা জোরপূর্বক বিষাক্ত কিছু খাইয়ে পিয়াইন নদীতে ফেলে দেয় বলে পরিবারের লোকজন ধারণা করেন। ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্তের ধারাবাহিকতায় র্যাব-৯ এ মামলার অন্যান্য আসামিদের ধরার জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ইয়াহিয়া (২২) সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানাধীন নাইন্দা হাওর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ও আরও ছয়জন ব্যক্তি যৌথভাবে ১২০ বিঘা জমিতে তরমুজের চাষাবাদ করতেন। সকলে পর্যায়ক্রমে রাতদিন তরমুজক্ষেতের পাহারা দিতেন এবং পরিচর্যা করতেন। গত ৫ মার্চ রাতে ইয়াহিয়া ও দুইজন সহকর্মী তরমুজক্ষেতের পাহারায় নিয়োজিত ছিলেন। পরের দিন ইফতারের সময় ভিকটিম বাড়িতে না আসায় তার স্ত্রী ও পরিবারের লোকজন খোঁজ খবর নিতে শুরু করেন।
ভিকটিমের সঙ্গে রাতে পাহারায় থাকা দুইজন সহকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। একই দিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ওই দুইজন ব্যক্তি ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে জানান, তারা পিয়াইন নদীতে মাছ শিকারকালে বিকট চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে টর্চ লাইটের আলোতে ভিকটিমকে নদীতে ডুবতে দেখেছেন এবং তাকে টেনে নদীর তীরে নিয়ে আসেন। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সিলেটে নিয়ে যাওয়ার পথে ভিকটিম মারা যান।
পরিবারের ধারণা, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজসে ভিকটিমকে অজ্ঞান করে মৃত ভেবে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দিয়েছে। ইয়াহিয়ার ভাই বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সদর কোম্পানি, সিলেট এবং র্যাব-৪, সিপিসি-৩, মানিকগঞ্জের যৌথ আভিযানিক দল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে মানিকগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আলী হোসেনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আলী হোসেন নাইন্দা হাওর, থানা-গোয়াইনঘাট, জেলার সিলেট, পিতা আমির উদ্দিন।
মামলার অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনার জন্য র্যাব-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
