ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ বন্ধ ও বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার নতুন শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তবে এ প্রস্তাব নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গেলো শনিবার ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের পাঠানো নতুন প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছেন। যদিও এর আগে পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো ইরানের আগের প্রস্তাব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে ১৪ দফা প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের কাছে পাঠায়। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৯ দফা শান্তি পরিকল্পনার পাল্টা জবাব।
ইরানের প্রস্তাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতির চেয়ে স্থায়ী যুদ্ধ অবসানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তেহরান ৩০ দিনের মধ্যে সব বিষয় নিষ্পত্তিরও প্রস্তাব দিয়েছে।
১৪ দফা প্রস্তাবে ইরান ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, লেবাননসহ সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালির জন্য নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের কথাও বলা হয়েছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ শুরু করে ইরান। পরে ট্রাম্প প্রশাসনও ইরানি বন্দরে নৌ অবরোধ আরোপ করে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উভয় পক্ষের মধ্যে নৌ উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। এই পথ দিয়ে বিশ্বে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি হয়। ফলে এ অঞ্চলের উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলছে।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি ‘খারাপ আচরণ’ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা শুরু করতে পারে। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তারা যদি খারাপ কিছু করে, তাহলে আবারও সেটি ঘটার সম্ভাবনা আছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, গত ৪৭ বছরে ইরান বিশ্বকে যে ক্ষতি করেছে, তার তুলনায় দেশটি এখনো যথেষ্ট মূল্য পরিশোধ করেনি। ফলে ইরানের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হওয়া কঠিন হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখনো আস্থার সংকট কাটেনি। ফলে নতুন এ ১৪ দফা প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কতটা কার্যকর হবে, তা এখন দেখার বিষয়।
