বাইশটিলাকে ঘিরে বড় স্বপ্ন, সিলেটে নির্মাণ হচ্ছে পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ ২০:৫৮
ছবি: স্থপতি রাজন দাশের নকশায় বাইশটিলা পর্যটন কেন্দ্র।
সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মুকুটে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও একটি নতুন পালক। এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন সদর উপজেলার বড়শালা এলাকায় অবস্থিত ‘বাইশটিলা’কে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছে সিলেট জেলা পরিষদ। ৪২.৪৭ একর জায়গার ওপর নির্মীয়মাণ এই ‘বাইশটিলা ন্যাচারাল পার্ক’ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি পর্যটকদের জন্য অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হবে।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে প্রকল্পের চলমান কাজ পরিদর্শন করেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। পরিদর্শন শেষে তিনি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনা ও সরকারের অর্থায়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাইশটিলা হবে সিলেটের একটি অনন্য পর্যটক-বান্ধব স্থান। সরকার এই প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন করবে যাতে এটি কেবল স্থানীয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানের একটি ন্যাচারাল পার্কে পরিণত হয়।’
প্রকৃতি ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সিলেটের পর্যটন অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পের প্রথম ধাপ: প্রাকৃতিক অবকাশ যাপন কেন্দ্র
বর্তমানে বাইশটিলার অনেকগুলো টিলার মধ্যে একটি ছোট্ট নিঃসঙ্গ টিলা ও তার চারপাশের প্রাকৃতিক জলাশয়কে কেন্দ্র করে ‘দিনব্যাপী প্রাকৃতিক অবকাশ যাপন কেন্দ্র’-এর কাজ চলছে।
স্থপতি রাজন দাশের নকশায় তৈরি এই প্রকল্পের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
ভিজিটর’স রিসেপশন পয়েন্ট: সরকারি রাস্তার পাশে একটি ঘাট থাকবে, যেখানে পর্যটকরা টিকিট সংগ্রহ ও নিরাপত্তা তল্লাশি শেষে স্পিডবোট বা দেশীয় নৌকায় চড়বেন।
ল্যান্ডিং ডেক ও টিলা আরোহণ: জলাশয় পার হয়ে বিপরীত পাড়ে ল্যান্ডিং ডেকে নামার পর টিলার গা-বেয়ে তৈরি সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে হবে।
বসার ব্যবস্থা ও স্থাপত্যশৈলী: টিলার বিভিন্ন উচ্চতায় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘দু-চালা’ ও ‘চৌ-চালা’ নকশার ছাউনি বা বসার জায়গা তৈরি করা হয়েছে।
সবুজায়ন: বর্তমানে আকাশমণি গাছের প্রাধান্য থাকলেও নতুন পরিকল্পনায় সিলেটের স্থানীয় ও দেশীয় বৃক্ষ-গুল্ম রোপণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিনোদন ও সুবিধা: ঝিলের মাঝখানে থাকা মাটির ঢিপিতে যাওয়ার জন্য একটি দড়ির তৈরি ঝুলন্ত সেতু (রোপ ব্রিজ) এবং মাছ ধরার জন্য বড়শির ব্যবস্থা থাকছে। এছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য হালকা খাবারের কিচেন ও রেস্টরুমের সুবিধা থাকবে। (উল্লেখ্য: এখানে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা থাকছে না)।
দ্বিতীয় ধাপ: মহাপরিকল্পনা ও ক্যাবল কার
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ের মাস্টারপ্ল্যানে বাইশটিলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় ধাপের সম্ভাব্য আকর্ষণগুলো হলো:
ক্যাবল কার: বড় টিলাগুলোর চতুর্দিকে ক্যাবল কার লাইনের মাধ্যমে আকাশ থেকে প্রকৃতি দেখার সুযোগ।
বিনোদন কেন্দ্র: শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড ও খেলার ব্যবস্থা এবং একটি এম্পিথিয়েটার।
বাণিজ্যিক সুবিধা: ফুডকোর্ট, মেলার স্থান এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের জন্য রিসোর্ট।
অবকাঠামো: পর্যাপ্ত পার্কিং ও আধুনিক রেস্টরুম সুবিধা।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ১৯৬২-৬৩ সালে এই পার্কের জন্য মোট ৬৩.৯২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিমানবন্দরের জন্য ১৯.৬৫ একর এবং রাস্তার জন্য ৩ একর জায়গা ছেড়ে দেওয়ার পর বর্তমানে ৪২.৪৭ একর জায়গা জেলা পরিষদের অধীনে রয়েছে। ১৯৯৩ সালে ভূমি নিয়ে দীর্ঘ আইনি জটিলতা থাকলেও ২০০৩ সালে আদালতের রায়ে তা জেলা পরিষদের অনুকূলে আসে।
