ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে নীরবে বাড়ছে ফ্যাটি লিভার রোগের ঝুঁকি। একসময় অনেকেই এটিকে সাধারণ সমস্যা মনে করলেও চিকিৎসকদের মতে, ফ্যাটি লিভার এখন এক ধরনের ‘নীরব ঘাতক’। কারণ রোগটির শুরুতে তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না, কিন্তু ধীরে ধীরে এটি লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এমনকি সময়মতো চিকিৎসা না নিলে লিভার সিরোসিস, লিভার ফেইলিওর কিংবা লিভার ক্যানসারের মতো জটিল অবস্থাও তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ফ্যাটি লিভার বর্তমানে মেটাবলিক ডিসফাংশন অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD) নামে পরিচিত। আগে এটি নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) নামে পরিচিত ছিল।
ফ্যাটি লিভার কী?
লিভারে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত চর্বি জমে গেলে তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। সাধারণত যাদের ওজন বেশি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি বেশি। তবে শুধু অতিরিক্ত ওজনধারীরাই নন, অনেক রোগা মানুষও ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হতে পারেন।
যেসব লক্ষণ অবহেলা করা ঠিক নয়
ফ্যাটি লিভারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, প্রাথমিক অবস্থায় অনেক সময় কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। তবে কিছু সতর্ক সংকেত দেখা দিতে পারে-
সবসময় ক্লান্ত বা দুর্বল লাগা শরীরে অস্বস্তি অনুভব করা পেটের ডান পাশে ব্যথা বা চাপ লাগা ক্ষুধামন্দা পেট ফোলারোগ জটিল আকার ধারণ করলে আরও গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যেমন-
ত্বকে চুলকানি পা ফুলে যাওয়া শ্বাসকষ্ট চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়াকেন হয় ফ্যাটি লিভার?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনযাপনই ফ্যাটি লিভারের অন্যতম প্রধান কারণ। অতিরিক্ত ফাস্টফুড, কোমল পানীয়, চিনি ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ, দীর্ঘসময় বসে থাকা এবং ব্যায়ামের অভাবে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমে। সেই চর্বি একসময় লিভারেও জমতে শুরু করে।
এ ছাড়া যাদের-
ডায়াবেটিস স্থূলতা থাইরয়েডের সমস্যা উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)রয়েছে, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি।
কখন ফ্যাটি লিভার বিপজ্জনক হয়ে ওঠে?
সব ফ্যাটি লিভার সমান নয়। কারও ক্ষেত্রে শুধু চর্বি জমে থাকে, আবার কারও লিভারে প্রদাহও শুরু হয়। এই প্রদাহ ধীরে ধীরে লিভারে ক্ষত তৈরি করে, যাকে ফাইব্রোসিস বলা হয়। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে তা সিরোসিসে রূপ নিতে পারে।
সিরোসিসের কারণে দেখা দিতে পারে-
পেটে পানি জমা (অ্যাসাইটিস) খাদ্যনালীর শিরা ফুলে যাওয়া ও রক্তক্ষরণ অতিরিক্ত ঘুমভাব, বিভ্রান্তি ও কথা জড়িয়ে যাওয়া (হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি) প্লাটিলেট কমে যাওয়া লিভার ক্যানসার শেষ পর্যায়ে লিভার সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যাওয়াপ্রতিরোধে করণীয়
চিকিৎসকদের মতে, জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলেই অনেক ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলা বেশি করে শাকসবজি, ফল ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার কমানো পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা মানসিক চাপ কমানোবিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো সচেতনতা ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই দীর্ঘদিন ক্লান্তি, হজমের সমস্যা বা পেটের অস্বস্তি থাকলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
