শিরোনাম
সিলেটকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে: পর্যটনমন্ত্রী শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রশাসনের দানবাক্স স্থাপন, ডেগ সিলগালা, ক্ষোভ ভক্তদের সিলেটে আওয়ামী লীগের ওপর কড়া নজরদারি সিলেটে একজনসহ প্রশাসন ক্যাডারের ১২ কর্মকর্তার বদলি সিলেটে হামে আরও দুই শিশুর মৃ.ত্যু, প্রাণহা.নি বেড়ে ৭৬ বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে যুক্ত হচ্ছে বিদেশি অপারেটর সরকারি চাকরিজীবীদের আরও সুবিধা বাড়লো সি‌লে‌টের গোয়াইনঘাটে নদীপথে চাঁদাবাজি: আটক ১, নৌকা ও নগদ টাকা জব্দ সিলেটের সীমান্তে নিখোঁজ যুবককে ঘিরে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা মেঘালয় সীমান্তঘেঁষে সিলেটে নির্মিত হচ্ছে ‘ড্রিম ট্যুরিস্ট রুট’

https://www.emjanews.com/

16499

tourism

প্রকাশিত

১৯ জুন ২০২৬ ১৯:০৪

পর্যটন

বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে যুক্ত হচ্ছে বিদেশি অপারেটর

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ ১৯:০৪

ছবি: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হতে যাচ্ছে বিদেশি অপারেটর। এর মধ্য দিয়ে এ খাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দীর্ঘ ৫৪ বছরের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তবে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের নিয়ন্ত্রণ বিমানের কাছেই থাকবে। কেবল যাত্রীসেবা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে লাগেজ চুরি, যাত্রী হয়রানি, জনবল ও সরঞ্জাম সংকট এবং সেবার ধীরগতির অভিযোগ দূর করে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার ফলে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে, সেবার মান বাড়বে এবং জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর কাজ করে। এতে প্রতিযোগিতা তৈরি হয় এবং সেবার মান উন্নত হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন একটি প্রতিষ্ঠানের একক নিয়ন্ত্রণ থাকায় দক্ষতা, আধুনিকায়ন ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বিদেশি অপারেটর যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণ দেশে আসবে। তবে এমন কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে যাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

তিনি আরও বলেন, যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সেবার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে এটি দেশের বিমান পরিবহন খাতের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানকে আরও আধুনিক ও সক্ষম প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। যে বিদেশি প্রতিষ্ঠানই আসুক না কেন, সেখানে বিমানের অংশীদারিত্ব থাকবে। এতে বিমানের কর্মীদের কর্মসংস্থান বজায় থাকবে এবং প্রয়োজন হলে নতুন জনবলও নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবে, যা দক্ষতা ও সেবার মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিমানবন্দর পরিচালনায় যাত্রী চলাচল, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, উড়োজাহাজের পরিচ্ছন্নতা, ক্যাটারিং, র‌্যাম্প সেবা এবং অন্যান্য সহায়ক কার্যক্রমের সমন্বিত ব্যবস্থাকেই গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বলা হয়। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে এ সেবার দায়িত্ব এককভাবে পালন করে আসছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং খাতটি বিমানের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে এ সেবা দিয়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

তবে দীর্ঘদিনের একক নিয়ন্ত্রণের কারণে সেবার মান নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। মালামাল চুরি, যাত্রী হয়রানি এবং বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছে।

এমন প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবাকে দুই ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে যাত্রীসেবা-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে বিমান ও একটি বিদেশি অপারেটরের যৌথ উদ্যোগ, আর কার্গো হ্যান্ডলিং পুরোপুরি বিমানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিচালনায় বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা, যুক্তরাজ্যের মেনজিস এবং তুরস্কের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি অপারেটর যুক্ত হওয়ার পর প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে যাত্রীসেবার ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কতটা দক্ষতা ও সক্ষমতার সঙ্গে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।