শিরোনাম
সিলেটকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে: পর্যটনমন্ত্রী শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রশাসনের দানবাক্স স্থাপন, ডেগ সিলগালা, ক্ষোভ ভক্তদের সিলেটে আওয়ামী লীগের ওপর কড়া নজরদারি সিলেটে একজনসহ প্রশাসন ক্যাডারের ১২ কর্মকর্তার বদলি সিলেটে হামে আরও দুই শিশুর মৃ.ত্যু, প্রাণহা.নি বেড়ে ৭৬ বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে যুক্ত হচ্ছে বিদেশি অপারেটর সরকারি চাকরিজীবীদের আরও সুবিধা বাড়লো সি‌লে‌টের গোয়াইনঘাটে নদীপথে চাঁদাবাজি: আটক ১, নৌকা ও নগদ টাকা জব্দ সিলেটের সীমান্তে নিখোঁজ যুবককে ঘিরে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা মেঘালয় সীমান্তঘেঁষে সিলেটে নির্মিত হচ্ছে ‘ড্রিম ট্যুরিস্ট রুট’

https://www.emjanews.com/

16498

jobs

প্রকাশিত

১৯ জুন ২০২৬ ১৮:৫৭

চাকুরী

সরকারি চাকরিজীবীদের আরও সুবিধা বাড়লো

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ ১৮:৫৭

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরকালীন আর্থিক সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতে ২০১৫ সালে পেনশন ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার আনে সরকার। এ লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, পেনশনের হার, আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি), পারিবারিক পেনশন এবং অব্যবহৃত ছুটি নগদায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পেনশন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাকরিকাল ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর করা হয়। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেনশনের হার শেষ অর্জিত মূল বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। ফলে দীর্ঘদিন চাকরি করা কর্মচারীরা অবসরের পর আগের তুলনায় বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।

প্রজ্ঞাপনে ৫ থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের জন্য ধাপে ধাপে নতুন পেনশন হার নির্ধারণ করা হয়। এতে ৫ বছর চাকরির ক্ষেত্রে ২১ শতাংশ পেনশন থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরির ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ পেনশন পাওয়ার বিধান রাখা হয়।

তবে ৫ থেকে ২৪ বছর চাকরিকালের ভিত্তিতে পেনশন সুবিধা সাধারণত বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে রয়েছে চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু, মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ী অক্ষমতা ঘোষণা কিংবা পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারানো।

অবসরভোগীদের পেনশন বৃদ্ধি

২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশনও বৃদ্ধি করা হয়। ৬৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পেনশন বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে মাসিক ন্যূনতম পেনশন ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

আনুতোষিক ও মৃত্যুজনিত সুবিধা

চাকরিকাল কমিয়ে আনার ফলে আনুতোষিক প্রদানের ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। ৫ থেকে ৯ বছর চাকরিকালের ক্ষেত্রে প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে ২৬৫ টাকা আনুতোষিক নির্ধারণ করা হয়।

এ ছাড়া কোনো কর্মচারী চাকরির পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করলে বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তার পরিবার বিশেষ আর্থিক সহায়তা পাবে। এ ক্ষেত্রে চাকরির প্রতিটি পূর্ণ বছরের জন্য শেষ তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।

পারিবারিক পেনশনে শর্ত শিথিল

পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। বিধবা স্ত্রীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সের পর পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামার শর্ত শিথিল করা হয়। পাশাপাশি মৃত নারী সরকারি কর্মচারীর স্বামীকেও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পারিবারিক পেনশন পাওয়ার যোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

ছুটি নগদায়নে বাড়তি সুবিধা

সংস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ছুটি নগদায়নের সুবিধা বৃদ্ধি। আগে সর্বোচ্চ ১২ মাসের অব্যবহৃত ছুটি নগদায়নের সুযোগ থাকলেও তা বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়। ফলে অবসরের সময় সরকারি কর্মচারীরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা লাভের সুযোগ পান।

২০১৫ সালের জুলাই থেকে কার্যকর

প্রজ্ঞাপনটি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়। ওই সময় যারা অবসর-পূর্ব ছুটিতে (পিআরএল) ছিলেন, তারাও নতুন সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হন।

সরকারের এই সংস্কারকে সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।