ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামে বৌলাই নদীর প্রবল স্রোতে একটি বসতঘর ভেসে যাওয়ার ঘটনায় শিকলবন্দি অবস্থায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক নিখোঁজ হয়েছেন।
সোমবার (২৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ যুবকের নাম রুবেল মিয়া (৩০)। তিনি বড়দল গ্রামের বাসিন্দা বশিরুল হকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি ঢলের পানি বৌলাই নদী থেকে মটিয়ান হাওড়ে প্রবেশের সময় নদীর তীব্র স্রোতে একটি বসতঘর ভেঙে নদীতে ভেসে যায়। ওই সময় ঘরের ভেতরে শিকলে বাঁধা অবস্থায় ছিলেন রুবেল মিয়া। ঘরটি নদীতে তলিয়ে গেলে তিনিও নিখোঁজ হন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জুয়েল আহমদ জানান, রুবেল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছিলেন। স্রোতের তোড়ে ঘরটি ভেসে যাওয়ার সময় তিনি বের হতে না পারায় নদীতে তলিয়ে যান।
ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ রুবেল মিয়ার কোনো সন্ধান মেলেনি।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে রোববার মধ্যরাত থেকে বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল কমে আসায় সুনামগঞ্জের নদ-নদীগুলোর পানি হ্রাস পেতে শুরু করেছে। সীমান্ত নদী জাদুকাটা, বৌলাই এবং প্রধান নদী সুরমার পানি কমতে থাকায় জেলার বন্যা পরিস্থিতিরও কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
বৃষ্টিপাত বন্ধ থাকায় সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের আনোয়ারপুর ও শাক্তিয়ারখলা এলাকার ওপর থেকে পানি নেমে গেছে। ফলে ওই সড়কে সরাসরি যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে সুরমা নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার কমে বর্তমানে বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
