ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় চলতি বছর ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। স্থায়ী বাসিন্দা (পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট) গ্রহণের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিদেশি কর্মী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় প্রায় ২৯ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই সংকটের প্রভাব পড়েছে কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপরও।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কানাডা মাত্র ৩ লাখ ৮০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অথচ অস্থায়ী ভিসায় বসবাসরত মানুষের সংখ্যা এর তুলনায় অনেক বেশি। ফলে চলতি বছরে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের কানাডায় বৈধভাবে থাকার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটধারীরা। তাদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও উদ্বেগে রয়েছেন। এদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কানাডার স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, খাদ্যশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করে দেশটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কানাডার মোট টেম্পোরারি রেসিডেন্টদের প্রায় অর্ধেকই দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। ফলে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শিক্ষার্থী ও কর্মীরাও এই সংকটের বাইরে নন।
এদিকে ওয়ার্ক পারমিটধারীদের জন্য স্টাডি পারমিট ছাড়া পড়াশোনার বিশেষ সুবিধার মেয়াদ ২৭ জুন শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে যাদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তারা নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারকে আরও কার্যকর করতে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে কানাডার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে অস্থায়ী বাসিন্দাদের অনেকের ভবিষ্যৎ।
অন্যদিকে, ইমিগ্রেশন বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, অস্থায়ী বাসিন্দাদের সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যে সরকার পরিকল্পিতভাবেই কঠোর নীতি অনুসরণ করছে, যাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টেম্পোরারি রেসিডেন্ট কানাডা ছাড়তে বাধ্য হন।
