ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের স্কলার্সহোম শিবগঞ্জ শাখায় উৎসবমুখর পরিবেশে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো ক্যাম্পাস উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামছ উদ্দিন। প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফ মো. নেয়ামত উল্লাহ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ শানিজ ফাতেমা ইব্রাহিম, সমন্বয়ক শর্মিলী রায়, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীদের পক্ষে স্বাগত বক্তব্য দেন আরোহী রায় বর্মন। পরে অতিথিদের শুভেচ্ছা ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের মাধ্যমে উদ্বোধনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খল শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত করতে শিক্ষকদের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অভিভাবকদের প্রতিনিধি বেলাল হোসেন বলেন, অধ্যক্ষের দূরদর্শী নেতৃত্ব, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলে স্কলার্সহোম শিবগঞ্জ শাখা অভিভাবকদের আস্থা ও বিশ্বাসের অন্যতম প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তিনি পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করেন।
উপাধ্যক্ষ শানিজ ফাতেমা ইব্রাহিম শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ, নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলাবোধ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামছ উদ্দিন বলেন, শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একজন শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের গুণাবলি ও দেশপ্রেমের বিকাশই প্রকৃত শিক্ষার লক্ষ্য। তিনি বলেন, বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম, যা তাদের আত্মপ্রকাশ ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী, মানবিক ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তব্য পর্ব শেষে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তির মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা। করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শারমিন সুলতানা ও সুদীপ্তা দে। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন শিক্ষক বিজুলী রাণী সিংহা, লিজা চৌধুরী, মিথীলা তালুকদার, মৌসুমী শ্যাম, মুক্তা ধর, সূচরিতা পাল, আমিনা খাতুন খুশী, রোকেয়া ফেরদৌস এনি, ফারজানা ইয়াসমীন ও শাবনাজ শমি।
প্রাণবন্ত, সুশৃঙ্খল ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের পরিবেশনার ভূয়সী প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এমন আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
