শিরোনাম
তিস্তা ইস্যুতে ভারতের উদ্বেগ নাকচ, সহযোগিতা বাড়াবে চীন যাদুকাটা নদীতে বালু লুটের মহোৎসব, ধ্বংসের মুখে সীমান্তের পর্যটন নদী সিলেটে সুরমা-কুশিয়ারার পানি বাড়ছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা সিলেটকে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার সিলেটে পৌঁছাবে কাতারে দুর্ঘটনায় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ সিলেটে উদ্ধার হওয়া ৬৮টি মোবাইল হস্তান্তর করল পুলিশ সিলেটে দেশের সবচেয়ে কম অপরাধ: আশার আলো দেখছে নগরবাসী জুলাই মাসে সিলেট নগরীতে চলাচলে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা সিলেটে বন্যার সতর্কতা জারি ৮ জেলায় তাপপ্রবাহ, সিলেটে ৫ দিন ভারী বর্ষণের আভাস

https://www.emjanews.com/

16766

surplus

প্রকাশিত

২৯ জুন ২০২৬ ২০:৪১

অন্যান্য

এক যুগেও পূরণ হয়নি আইসিটি শিক্ষার ঘাটতি

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ ২০:৪১

ছবি: সংগৃহীত

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দেশের সব কলেজে এখনো নিশ্চিত হয়নি প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও অবকাঠামো। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন (২০২৪) অনুযায়ী, দেশের ৪ হাজার ৮৭৬টি কলেজের মধ্যে এখনো ২০৭টি কলেজে কম্পিউটার সুবিধা নেই। একই সঙ্গে আইসিটি শিক্ষকের সংকটও রয়ে গেছে।

ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কলেজে মোট শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৯ জন। এর মধ্যে আইসিটি বিষয়ে শিক্ষক মাত্র ৫ হাজার ৫ জন। কলেজভেদে শিক্ষক বণ্টনে বড় ধরনের বৈষম্যও রয়েছে। স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যায়ে কর্মরত আইসিটি শিক্ষকদের মধ্যে মাত্র ৬৩ জন সরকারি প্রতিষ্ঠানে, আর ১ হাজার ৮০০ জন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কম্পিউটার সুবিধাবঞ্চিত ২০৭টি কলেজের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজই রয়েছে ১৬৪টি। এছাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২৯টি, ডিগ্রি (পাস) কলেজ ১০টি, অনার্স কলেজ দুটি এবং একটি মাস্টার্স কলেজেও কম্পিউটার সুবিধা নেই।

ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ জানান, ২০২৬ সালের হালনাগাদ প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি। নতুন তথ্য প্রকাশের পর আইসিটি শিক্ষক ও অবকাঠামোর সর্বশেষ চিত্র জানা যাবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইসিটি বিষয় বাধ্যতামূলক করলেই হবে না, কার্যকরভাবে পাঠদান নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত শিক্ষক, আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব এবং ব্যবহারিক শিক্ষার পরিবেশ অপরিহার্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. বিএম মাইনুল হোসাইন বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত না করেই আইসিটি বাধ্যতামূলক করায় শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছে না। অনেক কলেজে বাংলা, ইংরেজি, দর্শন, রসায়ন, গণিতসহ অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষক কয়েক মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে আইসিটি পড়াচ্ছেন, যা শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিন্দ্য ইকবাল বলেন, আইসিটি শিক্ষাকে কার্যকর করতে বাস্তবভিত্তিক কারিকুলাম, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামো এবং হাতে-কলমে শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ও উদ্ভাবনী শিক্ষণ পদ্ধতি চালুরও পরামর্শ দেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে আইসিটি বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে সরকারি কলেজে আইসিটি বিষয়ে প্রভাষক নিয়োগ শুরু হয় ২০১৬ সালে, যেখানে মাত্র ১৭০ জন প্রভাষক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল। শিক্ষাবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত না হলে আইসিটি শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।