শিরোনাম
পেনাল্টি মিসের বিষাদময় বিশ্বরেকর্ড গড়লেন মেসি সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ বন্যা সতর্কতায় এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের বার্তা ১২ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস: ঝুঁকিতে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ তামাবিল দিয়ে ১০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো ভারত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান: হবিগঞ্জে ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সিলেটে মার্কিন বিনিয়োগ ও পর্যটন নিয়ে মন্ত্রী-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভা সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-মা-ছেলের মৃত্যু বৈরী আবহাওয়ায় বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: ৫ জন উদ্ধার, নিখোঁজ ৬

https://www.emjanews.com/

16946

sylhet

প্রকাশিত

০৭ জুলাই ২০২৬ ১৪:৩৭

সিলেট

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান: হবিগঞ্জে ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

জেলার ২৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, এর মধ্যে ২০টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ ১৪:৩৭

ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি মাধবপুর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ছাদের অংশ ধসে একজন কর্মচারী আহত হওয়ার ঘটনায় জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত ২০ জুন শনিবার সকাল ১১টার দিকে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষের ছাদের অংশ ধসে পড়ে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের দপ্তরী প্রকাশ দাস আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এ ঘটনার পর জেলার ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ঘটনার পর হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহি দাস স্বপ্রণোদিত হয়ে হবিগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাকির হোসেন টিপুর আদালতে জেলার ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর তালিকা চেয়ে একটি আবেদন করেন।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরেজমিনে দেখা গেছে, একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বহু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর মধ্যে অন্যতম গৌরাঙ্গের চক বাবুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৯৫ জন শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ৩৪ বছর আগে নির্মিত বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটির বিভিন্ন অংশে ক্ষয় দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সাদি আহত হয়। এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমা আক্তার জানায়, ঝড়-তুফানের সময় ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায় তারা অনেক সময় পাশের বিদ্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

গৌরাঙ্গের চক বাবুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম এনটিভিকে বলেন, "পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে মো. সাদি নামে এক শিক্ষার্থী আহত হয়। প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে হয়।"

অন্যদিকে, জেলার প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম সোমেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর রায় বলেন, "১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত আমাদের বিদ্যালয়ে সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি পড়ে এবং ছাদের লিন্টেল ও প্লাস্টার খসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কারণে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।"

হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৫৯টি বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। এসব বিদ্যালয়ের অধিকাংশ ভবন দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং প্রায় ২৫ বছরেও সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি। এর মধ্যে ২০টি বিদ্যালয় ভবনকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক অতি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো হলো- হবিগঞ্জ সদরে ৩টি, লাখাইয়ে ৩টি, বাহুবলে ৩টি, নবীগঞ্জে ২টি, বানিয়াচংয়ে ১টি, আজমিরীগঞ্জে ১টি, মাধবপুরে ৩টি, চুনারুঘাটে ৩টি এবং শায়েস্তাগঞ্জে ১টি। এই ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ এসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম জানান, "জেলার যেসব বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ে আগামী অর্থবছরে নতুন ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"