শিরোনাম
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্প: জমি অধিগ্রহণে ১০ বছর, বাড়বে মেয়াদ সুনামগঞ্জে উজানের ঢলে বাড়ছে সুরমার পানি, বন্যার আশঙ্কা সুপার এল নিনোর প্রভাবে ২০২৮ পর্যন্ত বাড়বে খাদ্যের দাম মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জে বন্যায় পানিবন্দি ১৩ হাজারের বেশি পরিবার সিলেটে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস, নদী তীরবর্তী এলাকায় সতর্কবার্তা জনস্বার্থের সঙ্গে আপস নয়, আইএমএফ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বার্তা সিলেট বিভাগের তিন জেলায় বন্যা মোকাবিলায় বিজিবি মোতায়েন দেশ ছাড়ার আগে ওসমানী বিমানবন্দরে ধরা খেলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী নারী! সিলেটে যে কারণে ধরা পড়লেন অর্ধশত ব্যক্তি সিলেটে পাওনা টাকা চাওয়ায় ক্রেতার ঘুষিতে ব্যবসায়ীর মৃ/ত্যু

https://www.emjanews.com/

17075

international

প্রকাশিত

১২ জুলাই ২০২৬ ২০:৪৫

আন্তর্জাতিক

সুপার এল নিনোর প্রভাবে ২০২৮ পর্যন্ত বাড়বে খাদ্যের দাম

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ ২০:৪৫

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকা সংঘাতের ছায়ার মাঝেই এবার ‘সুপার’ এল নিনোর প্রভাবে খাদ্যের দামে বড় ধরনের ধাক্কা আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব ২০২৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওসেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নোয়া) পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের এল নিনো চক্রটি ‘গডজিলা’ বা ‘সুপার’ এল নিনোর রূপ নিতে পারে, যা ২০২৬-২৭ থেকে ২৮ সাল পর্যন্ত ফসল উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বজায় রাখবে।

গোল্ডম্যান স্যাক্সসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এল নিনোর প্রভাবে এরই মধ্যে ফসলের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভারতে বৃষ্টিপাতের ব্যাপক ঘাটতি গম, চাল ও আখের উৎপাদনকে সংকটে ফেলেছে।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, এর ফলে খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ইতালীয় ব্যাংক ইউনিক্রেডিট-এর তথ্যমতে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিশ্বব্যাপী কৃষি উৎপাদন ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে, যা আর্থিক অংকে ৩৪ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো চাল, চিনি, কফি ও পাম অয়েলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকরা একে ‘ক্লাইমেটফ্লেশন’ বা জলবায়ুজনিত মূল্যস্ফীতি হিসেবে অভিহিত করছেন। আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় খরা ও আর্দ্রতাজনিত রোগবালাইয়ের কারণে ফলন কমে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ব্যাংক ইউবিএস জানাচ্ছে, এল নিনোর প্রভাব সব অঞ্চলে সমান না হলেও সামগ্রিক সরবরাহ চেইনকে এটি অস্থিতিশীল করে তুলবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এল নিনো সবসময়ই দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অতীতে ১৮৭৬-৭৮ সালের এল নিনোর ধাক্কায় ভারতে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমানের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির মধ্যে এই নতুন প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্যও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের ওপর দীর্ঘমেয়াদী মূল্যস্ফীতির চাপ কমার সম্ভাবনা খুব কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।