ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জি থেকে নেমে আসা উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সুরমাসহ জেলার প্রধান নদীগুলোর উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওরাঞ্চলে ফের স্বল্প মেয়াদী বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে পুরো জেলায় সতর্কাবস্থা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৭ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটারে অবস্থান করছিল, যা গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। একই সময়ে ছাতক পয়েন্টে সুরমা এবং তাহিরপুরের পাটলাই নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় জাদুকাটা নদীর পানি সামান্য হ্রাস পেয়েছে এবং জগন্নাথপুরে কুশিয়ারা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সীমান্তে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে পাহাড়ি ঢলের চাপে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের শক্তিয়ারখলা এলাকা প্লাবিত হওয়ায় যানচলাচল ও পর্যটকদের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটে। গতকাল বিকেলে প্লাবিত ওই এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। সড়কটি তুলনামূলক নিচু হওয়ায় প্রতি বছর ঢল নামলে এখানে জনভোগান্তি তৈরি হয়।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক জনদুর্ভোগ লাঘবে সেখানে প্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণ ও সীমানা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে আজ সকাল থেকে সড়কটি থেকে পানি নেমে যাওয়ায় যানচলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানান, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে। স্থানীয় পর্যায়েও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় স্বল্প মেয়াদে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে জেলা প্রশাসন। ১২টি উপজেলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ১ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে হাওর ভ্রমণে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
