ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্প: জমি অধিগ্রহণে ১০ বছর, বাড়বে মেয়াদ
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে নকশা জটিলতা ও জমি অধিগ্রহণে ধীরগতি। ২০২৬ সালের পরিবর্তে নির্মাণকাজ শেষ হতে পারে ২০২৯ সালে।
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ ২২:৩৪
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়া, পরিষেবা লাইন স্থানান্তরে জটিলতা এবং নকশা বিভ্রাটে থমকে গেছে জনগুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের নির্মাণকাজ। ২০২৬ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা ২০২৯ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবনা ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
২০২১ সালে শুরু হওয়া ২০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়ক প্রকল্পের জন্য আলাদাভাবে জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সুফল মেলেনি। ২০১৮ সাল থেকে চলা জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার মেয়াদ দফায় দফায় বাড়িয়ে ২০২৭ সাল করা হয়েছে।
এদিকে মহাসড়কের জন্য প্রয়োজনীয় ১ হাজার ৩৩ একর জমির মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ২৭৭ একর বুঝে পেয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে সিলেট ও হবিগঞ্জ অংশে ভূমি অধিগ্রহণে চরম জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ভূমি বুঝে না পাওয়ায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইন সরানোর কাজও থমকে আছে।
প্রকল্পের ধীরগতির জন্য নকশা ত্রুটি ও মাটির গুণাগুণ যাচাই না করার বিষয়টি উঠে এসেছে আইএমইডির সমীক্ষা প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ইউটিলিটি লাইনের অবস্থান ও মাটির সক্ষমতা সঠিকভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ফলে বারবার নকশা পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
এছাড়া বর্তমানে পুরনো নকশায় সেফ ক্রসিং, আন্ডারপাস ও ওভারপাস যুক্ত করার আলাপ চলায় প্রকল্পের ব্যয় আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এডিবির ঋণ ও সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা।
প্রকল্প পরিচালক এ কে এম ফজলুল করিম জানিয়েছেন, জমি ও ইউটিলিটি হস্তান্তরের ঝামেলার কারণেই মূলত কাজ পিছিয়েছে। মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান মনে করেন, জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করার আগেই কাজ শুরু করা এবং নকশা ত্রুটি প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বাড়িয়ে দিচ্ছে। ঋণের বোঝা কমাতে হলে জমি এবং কারিগরি বিষয়গুলো মূল প্রকল্প শুরুর আগেই নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
