বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য শিলা ইসলাম (৩৫) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিলা গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগের উপজেলা শাখার শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিলা ইসলাম ছিলেন গৈলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতের দ্বিতীয় স্ত্রী। শিলার বাবা আব্দুস সালাম হাওলাদার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী মারুফ তুচ্ছ ঘটনায় প্রায়ই তার মেয়েকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করতেন। ঘটনার দিন শুক্রবার বিকেলে সেরাল গ্রামের ভাড়া বাসায় মারুফ তাকে আবারও অমানবিক নির্যাতন করেন। এই অপমান ও শারীরিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেন শিলা।
পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শিলা দুই কন্যাসন্তানের জননী ছিলেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
