সিলেটে থেকেও সিউকের উদ্বোধনে অনুপস্থিত প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী, প্রটোকল নাকি রাজনৈতিক দূরত্ব?
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৫৮
ছবি: সংগৃহীত
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) আনুষ্ঠানিক যাত্রার দিন সিলেটে অবস্থান করেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শুধু তিনি নন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও যোগ দেননি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও। ফলে সিউকের উদ্বোধন ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন; সিলেটে থেকেও কেন অনুষ্ঠানে গেলেন না?
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নগরীর নাইওরপুল এলাকার হোটেল ফরচুন গার্ডেনে সিউকের অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু আমন্ত্রণপত্রে নাম থাকা সত্ত্বেও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর অনুপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি করেছে। বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে এ কারণে যে, তিনি সিলেটেই ছিলেন। সড়কপথে সিলেটে পৌঁছে দুপুরে সার্কিট হাউসে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথাও জানা গেছে।
মন্ত্রীর পক্ষ থেকে অবশ্য অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে ব্যস্ততার কথা বলা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ঢাকায় জরুরি কর্মসূচি শেষে সিলেটে এসে তাকে সুনামগঞ্জে পূর্বনির্ধারিত বিএনপির দলীয় কর্মসূচি ও জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দিতে রওনা হতে হয়েছে। ফলে সিউকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সুযোগ হয়নি।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়; সিলেটে পৌঁছানোর পরও কি কয়েক মিনিটের জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া সম্ভব ছিল না? বিশেষ করে যখন একই দিনে তিনি নগরীর সার্কিট হাউসে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
এখানেই সামনে আসছে প্রটোকলের প্রশ্ন। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কার আসন কোথায়, কে প্রধান অতিথি, কে বিশেষ অতিথি কিংবা আমন্ত্রণপত্রে কার মর্যাদা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে; এসব বিষয় রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে আমন্ত্রণপত্রে নাম থাকা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানে না যাওয়ার পেছনে প্রটোকল নিয়ে কোনো অসন্তোষ ছিল কি না, সেটিও আলোচনার বিষয়।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরীর মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্বের আলোচনাও। তবে এ ধরনের রাজনৈতিক ব্যাখ্যার পক্ষে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য ও নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই। তাই এটিকে নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি রাজনৈতিক মহলে ওঠা একটি প্রশ্ন হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।
অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও অনুপস্থিত ছিলেন।
আমন্ত্রণ থাকার পরও সিলেটে অবস্থানরত দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কেন সিউকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন না? এর প্রকৃত কারণ কি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি, নাকি এর আড়ালে রয়েছে অন্য কোনো রাজনৈতিক বা প্রটোকল-সংক্রান্ত বিষয়?
