ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আসনে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের তদারকির ক্ষমতা দেওয়ার উদ্যোগকে ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে স্পিকার বরাবর চিঠি দিয়েছেন ৬৭ জন সংসদ সদস্য। গত ২৩ আগস্ট জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে এই আনুষ্ঠানিক লিখিত আপত্তি জমা দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে আসেন।
চিঠিতে সংসদ সদস্যরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট আসনে নির্বাচিত এমপির কাজের ওপর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের তদারকি বা হস্তক্ষেপের কোনো আইনি সুযোগ নেই।
তারা দাবি করেন, এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সংসদীয় রীতি ও সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থি। জবাবদিহিতার কাঠামোর দোহাই দিয়ে একজনকে অন্যজনের কাজের নিয়ন্ত্রক বানানো গণতান্ত্রিক রীতির অবমাননা বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
আন্তর্জাতিক নজির টেনে চিঠিতে বলা হয়, বিশ্বে নারী প্রতিনিধিত্বে শীর্ষে থাকা রুয়ান্ডায় সংরক্ষিত আসনের সদস্যরা নীতিনির্ধারণী ও আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন, কিন্তু তারা কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধির কাজ তদারকি করেন না। একইভাবে পাকিস্তান, তানজানিয়া, উগান্ডা, কেনিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ভারতের সংসদীয় মডেল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক কাঠামোতেই একই এলাকায় একজন প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত সদস্যের ওপর অন্য সদস্যের আইনি তদারকির নজির নেই।
পরিশেষে, চিঠিতে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের তদারকি সংক্রান্ত প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত বা আইন সংশোধনের উদ্যোগ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এই বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
চিঠিটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন।
