ছবি: সংগৃহীত
একজন বাবার কাছে সন্তানের চেয়ে মূল্যবান আর কী-ই বা হতে পারে? সন্তানের হাসি, ছোট ছোট আবদার আর মায়ের-বাবার হাত ধরে বেড়ে ওঠাই তো একটি পরিবারের সবচেয়ে বড় আনন্দ। অথচ সেই সন্তানকেই যদি কোনো বাবা টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেন; তাও আবার একটি মোবাইল ফোন কেনার জন্য; তাহলে সেই ঘটনা শুধু বিস্মিতই করে না, গভীর এক মানবিক প্রশ্নের জন্ম দেয়।
পটুয়াখালীর দশমিনায় দেড় বছরের শিশু মুসাকে ঘিরে এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ, কাঠমিস্ত্রি বাবা মো. মারুফ নিজের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দিয়ে দিয়েছেন। আর সেই টাকা দিয়ে ঢাকায় গিয়ে পুরোনো আইফোন দিয়ে নতুন আইফোন কিনেছেন।
শনিবার সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল মুসার পরিবারের। শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগমকে বাবা মারুফ বলেছিলেন, নাতিকে সুন্দর করে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে। মাকে জানিয়েছিলেন, শিশুটিকে নিয়ে বাজারে ঘুরতে যাবেন।
দেড় বছরের মুসা হয়তো তখনও বুঝতে পারেনি, বাবার হাত ধরে বেরিয়ে যাওয়ার সেই মুহূর্তটি তার জীবনে কত বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে চলেছে।
বাবার সঙ্গে বাজারে যাওয়ার কথা ভেবে শিশুটি বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে। কিন্তু সময় গড়িয়ে সকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা হয়ে যায়। বাড়িতে ফেরেন না মারুফ ও মুসা। উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে পরিবার।
শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।
একপর্যায়ে বাবার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন এমন এক খবর, যা বিশ্বাস করাই কঠিন।
আইফোন কেনার জন্য নিজের সন্তানকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দিয়ে দিয়েছেন মারুফ।
পরিবারের দাবি, শিশুটিকে দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া টাকা দিয়ে তিনি ঢাকায় গিয়ে পুরোনো আইফোন বদলে নতুন আইফোন কেনেন।
চার বছর আগে বিয়ে হয়েছিল মারুফের। স্ত্রী বৃষ্টির সঙ্গে তাদের সংসারে জন্ম নেয় মুসা। পারিবারিক বিরোধের কারণে প্রায় এক মাস আগে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর বাবার কাছেই ছিল ছোট্ট মুসা।
মুসাকে কিনে নেওয়ার অভিযোগ ওঠা ইমরান হোসেনের দাবি, মারুফ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে সন্তানকে দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন। তার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে, কোনো ছেলে সন্তান নেই। এ কারণে আলোচনা করে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে লিখিতভাবে নেওয়া হয়। পরে শিশুটিকে তার শ্বশুরের বাড়িতে রেখে আসা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ঘটনার পর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে উৎকণ্ঠা। একটি পরিবারে যে শিশুটি ছিল সবার আদরের, সে এখন অন্য একটি পরিবারের কাছে।
সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন শিশুটির দাদি। তার কাছে আইফোনের কোনো মূল্য নেই, এক লাখ টাকারও কোনো মূল্য নেই। তার একমাত্র চাওয়া-তার নাতিকে ফিরে পাওয়া।
‘আমি আমার নাতিকে ফিরে পেতে চাই’-দাদির এই আকুতিই যেন পুরো ঘটনার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অংশ।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশও নড়েচড়ে বসেছে। দশমিনা থানার ওসি মো. আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। শিশুটিকে যে ব্যক্তি নিয়েছেন, তাকে থানায় আনা হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। উদ্ধারের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
