শিরোনাম
প্রবাসীদের বিমান ভাড়া নিয়ে সুখবর, কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার হবিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত সিলেটে টাকা ফেরত চাওয়ায় ভাইয়ের হাতে বোন খু/ন সিলেটে যে সময়ে ঘটবে ভয়াবহ লোডশেডিং সিলেটে ২৯ জন গ্রেফ/তার: প্রায় ২শ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আনন্দভ্রমণে মৃত্যু: টাঙ্গুয়ার হাওরে ৪ মাসে ৫ প্রাণহানি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন স্লিপার বাস বন্ধ ও ইটিসি সিস্টেম চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হবিগঞ্জে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা পরিদর্শন: চিকিৎসক বরখাস্তের নির্দেশ স্থানীয় নির্বাচন: জনপ্রিয়তা-গ্রহণযোগ্যতা-ত্যাগে জোর, বিদ্রোহীদের নিয়ে সতর্ক বিএনপি সিলেটে যে অপরাধে ধরা পড়লেন ২৬ জন

https://www.emjanews.com/

18211

national

প্রকাশিত

৩০ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৪১

জাতীয়

কে সেই ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব’? সাগর-রুনি হত্যায় নতুন রহস্য

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৪১

ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের এক যুগের বেশি সময় পর তদন্তে নতুন করে সামনে এসেছে এক ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ নাম। তবে তিনি কে-এখনও প্রকাশ করেনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের ভাষ্য, সাগর-রুনি হত্যা মামলাসংশ্লিষ্ট কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনা করতে গিয়ে ওই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের একটি ‘কানেকশন’ বা সংযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি এখনও যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, সিডিআর বিশ্লেষণেই উঠে এসেছে ওই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টি। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং তদন্তে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে পিবিআইকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করা হতে পারে।

এখানেই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-কে সেই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব?

তিনি কি সাগর-রুনির পরিচিতজন, নাকি হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা কোনো ব্যক্তি? সিডিআর-এ তার সঙ্গে কী ধরনের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে? ওই যোগাযোগ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, নাকি ঘটনাটির পারিপার্শ্বিক কোনো তথ্যের সূত্র? এসব প্রশ্নের কোনোটি এখনও স্পষ্ট করেনি তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

চিফ প্রসিকিউটরও ওই ব্যক্তির পরিচয় বা তার সঙ্গে সাগর-রুনির কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। ফলে তার বক্তব্যের ভিত্তিতে ওই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই। আপাতত বিষয়টি তদন্তের একটি ‘ক্লু’ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে এর আগেও নতুন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা। সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে একটি মামলার তদন্তের সময় তিনি সাগর-রুনি হত্যার বিষয়ে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

জোহার দাবি ছিল, হত্যাকাণ্ডের আগে থেকেই র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের কাছে এ বিষয়ে তথ্য ছিল। এক ইন্টেলিজেন্স কর্মকর্তার বরাতে তিনি জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে ওই কর্মকর্তাকে বলা হয়েছিল, ‘একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে।’ তবে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা তখন নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। পরদিন সকালে ওই কর্মকর্তা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন বলে দাবি করা হয়।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। দীর্ঘ ১৪ বছরেও এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ হয়নি। এর মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৯ বার পেছানো হয়েছে।

সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

প্রথমে র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলেও ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে উচ্চ আদালত বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। ওই বছরের অক্টোবরে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। পরে তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে আদালতে প্রতিবেদনও দেওয়া হয়।

গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্টে ওই অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। প্রতিবেদনের প্রকাশযোগ্য অংশে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের সময় দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং পুলিশ প্রশাসনের তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনেকের কাছ থেকে বর্তমান টাস্কফোর্স প্রয়োজনীয় তথ্য বা সহযোগিতা পাচ্ছে না।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সাগর-রুনি হত্যা মামলায় এবার নতুন করে সামনে এসেছে ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সংযোগের দাবি। তবে সেই ব্যক্তি কে এবং তার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সম্পর্ক কী; তার উত্তর মিলবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তদন্তে পাওয়া এই ‘ক্লু’ শেষ পর্যন্ত হত্যার রহস্য উন্মোচনে কতটা ভূমিকা রাখে, সেটিই দেখার বিষয়।