ছবি: সংগৃহীত
এক মাস তুলনামূলক শান্ত থাকার পর আবারও সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলায় জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মঙ্গলবার ইরানে মার্কিন হামলায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হতাহতের খবরের পর জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছে তেহরান।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের হামলার প্রচেষ্টার জবাবে আইআরজিসির বিমান প্রতিরক্ষা, রাডার, সামুদ্রিক ও যোগাযোগব্যবস্থাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
তবে ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকাতেও হামলা হয়েছে। সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলায় অন্তত চারজন নিহত ও ৫০ জনের বেশি আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট। নিহতদের মধ্যে চার বছরের একটি শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
এরপর ইরানের আইআরজিসি জর্ডান, বাহরাইন ও উত্তর ইরাকে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। জর্ডান জানিয়েছে, তারা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ১০টি প্রতিহত করেছে। এসব হামলায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইরানি বাহিনীর মার্কিন সেনা নিহতের দাবিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
নতুন সংঘাতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। সংঘাতের কারণে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল আরও কঠিন করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের পাল্টা হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আরও বড় ও কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের সমঝোতায় ফেরার অঙ্গীকার করলে তেহরানও আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত।
ফলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লেও কূটনৈতিক সমাধানের দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে সংঘাত পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
