শিরোনাম
প্রবাসীদের বিমান ভাড়া নিয়ে সুখবর, কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার হবিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত সিলেটে টাকা ফেরত চাওয়ায় ভাইয়ের হাতে বোন খু/ন সিলেটে যে সময়ে ঘটবে ভয়াবহ লোডশেডিং সিলেটে ২৯ জন গ্রেফ/তার: প্রায় ২শ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আনন্দভ্রমণে মৃত্যু: টাঙ্গুয়ার হাওরে ৪ মাসে ৫ প্রাণহানি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন স্লিপার বাস বন্ধ ও ইটিসি সিস্টেম চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হবিগঞ্জে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা পরিদর্শন: চিকিৎসক বরখাস্তের নির্দেশ স্থানীয় নির্বাচন: জনপ্রিয়তা-গ্রহণযোগ্যতা-ত্যাগে জোর, বিদ্রোহীদের নিয়ে সতর্ক বিএনপি সিলেটে যে অপরাধে ধরা পড়লেন ২৬ জন

https://www.emjanews.com/

18206

international

প্রকাশিত

৩০ আগস্ট ২০২৬ ১৯:০২

আন্তর্জাতিক

গাছে বেঁধে শরীরে আগুন দিয়ে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে হত্যা!

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ ১৯:০২

ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ২৮ বছর বয়স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত মুখ। এক লাখ ৪৬ হাজারের বেশি অনুসারী। সাত বছরের একটি সন্তান। জীবনটা হয়তো আরও অনেক দূর যাওয়ার কথা ছিল মনজিৎ কৌরের।

কিন্তু একটি ভয়াবহ রাত তার সবকিছু কেড়ে নিল।

অপহরণের পর মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল ভারতীয় এই ইনফ্লুয়েন্সারকে। ভয়াবহ অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর প্রায় দুই মাস হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে হার মানতে হয়েছে তাকে।

গত ২৬ আগস্ট চণ্ডীগড়ের পিজিআইএমইআর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মনজিৎ।

ঘটনাটি ঘটে গত ৩ জুলাই রাতে। মায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিন সেক্টর ৩৪ এলাকায় শুভি ও পিন্ডা নামের দুই পরিচিত ব্যক্তি মনজিৎকে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এরপর পাঞ্জাবের রূপনগর জেলার মোরিন্ডায় নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

সেখানে শুরু হয় নির্যাতন। মনজিৎকে বেধড়ক মারধরের পর একটি তুত গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

একজন মানুষ তখন আগুনে পুড়ছিলেন। আর দূরে কোথাও হয়তো তার সাত বছরের সন্তান জানতই না, তার মায়ের জীবনে কী ভয়াবহ রাত নেমে এসেছে।

খবর পেয়ে মনজিতের এক বন্ধু ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কম্বল পেঁচিয়ে কোনোভাবে তার শরীরের আগুন নেভান। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে মোরিন্ডার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে মোহালির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৯ জুলাই তাকে নেওয়া হয় চণ্ডীগড়ের পিজিআইএমইআর হাসপাতালে।

এরপর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা। গুরুতর পোড়া জখম নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় পড়ে ছিলেন মনজিৎ। দীর্ঘ সময় ছিলেন অচেতন। স্বজনদের কাছে তার জেগে ওঠার অপেক্ষার প্রতিটি মুহূর্ত যেন ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা।

অবশেষে ৫ আগস্ট কিছু সময়ের জন্য জ্ঞান ফিরে আসে তার। সেই অল্প সময়েই স্বজনদের কাছে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ভয়াবহতার কথা জানান মনজিৎ। হয়তো তিনি চেয়েছিলেন, তার সঙ্গে কী ঘটেছিল তা যেন হারিয়ে না যায়। যেন তার ওপর চালানো নির্যাতনের সত্যিটা সবাই জানতে পারে।

কিন্তু সেই জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পরও আর সুস্থ হয়ে ওঠা হয়নি তার। শারীরিক অবস্থার আবার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা, স্বজনদের অপেক্ষা এবং বেঁচে ফেরার আকাঙ্ক্ষাকে পেছনে ফেলে ২৬ আগস্ট থেমে যায় তার জীবন।

পেছনে রয়ে গেল সাত বছরের সন্তানটি। রয়ে গেল এক মায়ের বুকভরা শোক। আর রয়ে গেল এমন একটি প্রশ্ন; কেন একজন মানুষকে এভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হলো? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

মনজিতের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে চণ্ডীগড় পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় অপহরণ ও হত্যার মামলা করেছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করছে। সেক্টর ৩৪ থানার ওসি শাদী লাল জানিয়েছেন, মূল অভিযুক্ত শুভি ও পিন্ডাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।