সিকৃবিতে অস্থিরতা: উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগে ৯ জনের পদত্যাগ
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:১৩
ছবি: সংগৃহীত
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ১১টি প্রশাসনিক পদ থেকে বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’-এর ৫ জনসহ মোট ৯ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। রেজিস্ট্রারের দপ্তরে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- এমএজি ওসমানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাওছার হোসেন, শহীদ জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, হযরত শাহজালাল (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হক, হযরত শাহপরান (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন এবং দূররে সামাদ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদার।
এ ছাড়া পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারাও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
পদত্যাগের আগে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন আন্দোলনকারীরা।
এসময় তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান উপাচার্য যোগদানের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ ও আর্থিক বিষয়ে নজিরবিহীন অনিয়ম চলছে। ন্যূনতম যোগ্যতা নেই এমন ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া এবং সাধারণ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কথায় কথায় শোকজ ও হয়রানি করার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষক ও প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাওছার হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে নৈতিক অবস্থান থেকেই আমরা দায়িত্ব ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি।' পদত্যাগকারী সকলে অবিলম্বে উপাচার্যের অপসারণ দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নাকচ করে দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি পক্ষ ব্যক্তিগত স্বার্থে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে আর্থিক প্রতিটি কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।' উপাচার্যের দাবি, যোগ্য ব্যক্তিদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।
