শিরোনাম
বালু লুট ঠেকাতে সুনামগঞ্জের ধোপাজানে পুলিশের সিসি ক্যামেরা! সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের অনুমতি মিললেও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে! দোয়ারাবাজারে গরু চুরির অভিযোগে তিনজনকে নির্যাতন, চুন ঢালা হলো চোখে শনিবার সিলেটের অর্ধশতাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না ড. ইউনুসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে সিলেটে বেসামাল হাম, ২৫ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় টিকা ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে চতুর্থ দিনের অবস্থান কর্মসূচি চলছে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজ শেষ হবে ২০২৯ সালে প্রতি রাতে ‘হুজুরের কক্ষে’ যেতে বাধ্য দুই শিশু, সিলেটে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক

https://www.emjanews.com/

18583

sylhet

প্রকাশিত

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৪৪

সিলেট

মদ্যপ অবস্থায় মাকে লাঠিপেটা, ছেলের ৬ মাসের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৪৪

ছবি: সংগৃহীত

একজন মায়ের জন্য সন্তানের চেয়ে আপন আর কে-ই বা আছে! সেই সন্তানই যখন নেশার ঘোরে মায়ের ওপর হাত তোলে, তখন শুধু একটি পরিবার নয়-ভেঙে পড়ে মায়ের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নও।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার পর ৩২ বছর বয়সী এক যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রীতম সরকার উপজেলার রাজারবাজার দামোদরপুর এলাকার রুকমিনী সরকারের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেশি মদ পান করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়ি ফেরেন প্রীতম। অভিযোগ, এরপর লাঠি দিয়ে নিজের মাকে বেধড়ক মারধর করেন তিনি। এতে গুরুতর আহত হন রুকমিনী সরকার। মায়ের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে রক্ষা করেন এবং বিষয়টি পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে জানান।

পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রীতমকে আটক করে।

স্থানীয় ও থানা সূত্র জানায়, প্রীতম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশা যে শুধু তার নিজের জীবনকেই বিপন্ন করেছে, তা নয়; তার সবচেয়ে কাছের মানুষ, বৃদ্ধ মায়ের জীবনেও বয়ে এনেছে ভয় ও কষ্ট।

ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন চুনারুঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিক আনোয়ার। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় প্রীতমকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

একজন মায়ের জন্য সন্তানের শাস্তি নিঃসন্দেহে বেদনার। কিন্তু নেশার কাছে যখন মায়ের নিরাপত্তাও হার মানে, তখন সেই নেশার বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। প্রীতমের এই ঘটনা তাই শুধু একটি ফৌজদারি মামলার খবর নয়; এটি একটি পরিবারের ভেতরে মাদক কীভাবে ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে, তারও নির্মম উদাহরণ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিক আনোয়ার বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় চুনারুঘাট উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তবে শাস্তির পাশাপাশি প্রীতমের মতো মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। কারণ একজন মাদকাসক্তকে কেবল শাস্তি দেওয়া নয়, তাকে নেশামুক্ত করে পরিবার ও সমাজে ফিরিয়ে আনাও মানবিক দায়িত্ব। আর রুকমিনী সরকারের মতো মায়েদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি হবে-সন্তান যেন আর কখনো নেশার ঘোরে মায়ের বিরুদ্ধে হাত না তোলে।