শিরোনাম
ড. ইউনুসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে সিলেটে বেসামাল হাম, ২৫ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় টিকা ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে চতুর্থ দিনের অবস্থান কর্মসূচি চলছে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজ শেষ হবে ২০২৯ সালে প্রতি রাতে ‘হুজুরের কক্ষে’ যেতে বাধ্য দুই শিশু, সিলেটে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক ভারতে কয়লা খনিতে সিলেটের যুবকের মৃ/ত্যু সুনামগঞ্জের ৩ যুবককে কাশ্মীরে পাচার, দফায় দফায় মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ সালমান শাহ হ/ত্যা: ডনের আচরণে মিলেছে ‘সংশ্লিষ্টতার আভাস’ সিকৃবির উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের প্রতিবাদ

https://www.emjanews.com/

18523

surplus

প্রকাশিত

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৪৩

আপডেট

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫১

অন্যান্য

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে চতুর্থ দিনের অবস্থান কর্মসূচি চলছে

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৪৩

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের ‘সাদা দল’ সমর্থিত শিক্ষকরা। একই সঙ্গে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে কর্মকর্তাদের একটি অংশ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা দিয়ে ফটকের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় উপাচার্যকে ‘দুর্নীতিবাজ’ ও ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শের শত্রু’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।

এই আন্দোলনে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দও সমর্থন দিয়ে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক সানাউল হোসেন সনি,  যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোসেন,   মো: গোলাম রব্বানী, রাকিব হোসেন অত্রাদ,  জাহিদ হাসান ফাহাদ, মঈনুল হাসান সাদিক, মেহেদী হাসান রতন, সাদাব হোসেন রিয়ন আহবায়ক সদস্য আশরাফুল ইসলাম সহ ছাত্রদলের সদস্য রাজেশ বাছাড়,  তারিকুল ইসলাম, মামুন মিয়া, মুক্তার হোসেন, নাজমুল হোসেন, ধ্রুব সিদ্দিকী।

এর আগে গত সোমবার উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পাঁচ শিক্ষকসহ ১১ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপিও দেন তারা।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএজি ওসমানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাওছার হোসেন, শহীদ জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, হযরত শাহজালাল (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হক, হযরত শাহপরান (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন, দূররে সামাদ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদার, ঢাকার গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ মো. বাসির উদ্দিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গাজী মো. জহিরুল ইসলাম, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. আশরাফুজ্জামান, ক্যাম্পাসের গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ গাজী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও ডেপুটি রিজিস্ট্রার মো. বাসির উদ্দিন।

পদত্যাগকারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং শিক্ষক নিয়োগে বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে। এসব বিষয়ে আপত্তি জানিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাজস্ব খাতের অর্থে কিছু উন্নয়ন ও মেরামতের কাজ করা হলেও এসব ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে টেকওভার করার আগেই সেখানে মেরামতকাজ করা হয়েছে। এসব কাজের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কয়েকটি কাজের ক্ষেত্রে যথাযথ দরপত্র প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি বলে দাবি তাদের।

ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তারা। তাদের ভাষ্য, ইলেকট্রনিকস ও আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কয়েকটি ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষক নিয়োগেও অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন পদত্যাগকারীরা। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক আটজন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গ্র্যাজুয়েটদের তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থীদের অধিকাংশকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

পদত্যাগকারী এক শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের যোগ্যতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।’

এ ছাড়া নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন প্রার্থী উপাচার্যের নিজ এলাকা বা পরিচিতজন-এমন অভিযোগও করেছেন পদত্যাগকারীদের একজন। 

এদিকে পদত্যাগের পর থেকেই প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ যুক্ত হয়েছেন। তারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হয়রানি, নিয়োগে অনিয়ম এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণ দাবি করছেন।

‘সাদা দল’ সমর্থিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, উপাচার্যের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে শিক্ষক ও কর্মকর্তারা পদত্যাগ করেছেন। বর্তমান প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পদত্যাগকারী প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. কাউছার হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে আমরা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছি।’

তবে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক পদ থেকে তারা অব্যাহতি চেয়েছেন। তাদের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, তারা আর দায়িত্ব চালিয়ে যেতে চান না। বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রচুর শিক্ষক রয়েছেন। তাদের পদত্যাগে কোনো সমস্যা হবে না। তাদের মূল টার্গেট হচ্ছে, আমাকে সরানো।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘সরকার আমাকে নিয়োগ দিয়েছে, সরকার বললে আমি চলে যাব।’

শিক্ষক নিয়োগে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্যদেরই শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পাওয়া সবার প্রথম শ্রেণি রয়েছে এবং আইন অনুযায়ীই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।