ছবি: সংগৃহীত
বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করতে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা করায় বিরোধী দলের নেতাদের সমালোচনা করেছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। শরিয়া আইনের দোহাই দিয়ে এই বিলের বিরোধিতা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘বাবা-মা বৃদ্ধ বয়সে তাঁদের সম্পদ সন্তানকে দান বা হস্তান্তর করার পর অনেক সময় সন্তানরা তাঁদের দেখাশোনা করে না। এমনকি বাবা-মাকে ভিক্ষা করতে হয় কিংবা বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে হয়। এই পরিস্থিতি থেকে তাঁদের সুরক্ষা দিতেই আইনটি করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিলটিতে শরিয়া আইন চালু করা হবে-এমন কোনো কথা নেই। তাহলে শরিয়ার দোহাই দিয়ে বিলটির বিরোধিতা কেন করা হচ্ছে?’
চিফ হুইপ বলেন, ‘আপনারা যদি বিলটি পড়েন, তাহলে নিশ্চয়ই দেখবেন-এখানে শরিয়া আইন চালুর কোনো বিষয় নেই। অথচ শরিয়া আইনের দোহাই দিয়ে বিলটির বিরোধিতা করা হচ্ছে।’
এ সময় প্রচলিত আইন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘দেশে ফৌজদারি আইনসহ বিভিন্ন আইন প্রচলিত রয়েছে, যেগুলো শরিয়া আইন নয়। ফলে একটি নির্দিষ্ট আইনের ক্ষেত্রে শরিয়ার দোহাই দিয়ে আপত্তি জানানো হলে প্রচলিত অন্যান্য আইন নিয়েও একই প্রশ্ন তোলা যায়।’
বাবা-মায়ের অধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সন্তানরা বাবা-মায়ের কাছ থেকে সম্পত্তি নিয়ে পরে তাঁদের ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দেবে-এটা হতে পারে না। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের শেষ জীবনের নিরাপত্তা ও সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করতেই আইনটি করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মা-বাবাকে সম্মান করা এবং তাঁদের বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে নিজেদের সম্পত্তি জীবদ্দশায় ভোগের অধিকার দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ এ ধরনের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আগে কোনো আইন ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
গত ৬ সেপ্টেম্বর দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগস্বত্ব সংরক্ষণ করে সন্তান, নাতি-নাতনি বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ রেখে ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬ সংশোধিত আকারে জাতীয় সংসদে পাস হয়।
তবে বিলটি শরিয়া ও মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা যাচাই করতে ইসলামী আইন ও শরিয়া বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কমিটির বিরোধীদলীয় সদস্যরা।
ধর্মীয় দলগুলোর আপত্তি প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ‘জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনায় ৩৩টি দল অংশ নিয়েছে। কোনো একটি দল বা ব্যক্তি ইসলামি দলের পরিচয়ে বক্তব্য দিলেই সেটিকে সব ইসলামি দলের বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।’
এ সময় প্রচলিত আইন ও বিবাহসংক্রান্ত আইন নিয়েও একই ধরনের প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তৃতীয় অধিবেশনের কার্যক্রম তুলে ধরে চিফ হুইপ জানান, নয় কার্যদিবসের এই অধিবেশনে ছয়টি বিল উত্থাপিত এবং ছয়টি বিল পাস হয়েছে।
তিনি জানান, কার্যপ্রণালি-বিধির ৬৮ বিধিতে দুটি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে। ৭১ বিধিতে ১৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে। একই বিধির আরেক পর্যায়ে প্রায় ১২৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া ১৪৭ বিধিতে একটি এবং ৩০২ বিধিতে একটি নোটিশ উত্থাপিত হয়েছে।
চিফ হুইপ জানান, প্রধানমন্ত্রী ১৫টি প্রশ্নের উত্তর সরাসরি দিয়েছেন। অধিবেশনে মোট ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নোত্তর হয়েছে।
