দেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আলমগীর হোসেন।
তিনি বলেন, দেশে দুই লাখেরও বেশি ফার্মেসি রয়েছে। এসব ফার্মেসিকে যথাযথ সুপারভিশনের আওতায় আনতে না পারলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়া কঠিন হবে। কারণ এখনো অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক কিনে নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ফার্মাকোভিজিল্যান্স বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মহাপরিচালক বলেন, ফার্মেসি পর্যায়ে গুড ফার্মেসি প্র্যাকটিস (জিপিপি) বজায় রাখা, অ্যান্টিবায়োটিক স্টুয়ার্ডশিপ প্রোগ্রাম শক্তিশালী করা এবং ফার্মেসিগুলোকে ডিজিটাল তদারকি ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা যাবে না। এ নিয়ম বাস্তবায়নে নিয়মিত মনিটরিং এবং প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু অভিযান চালিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ফার্মেসিতে প্রশিক্ষিত পেশাদার ফার্মাসিস্ট নিশ্চিত করতে হবে। প্রেসক্রিপশন বিশ্লেষণ, রোগীকে ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া এবং রোগীর তথ্য সংরক্ষণে ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফার্মেসি ব্যবস্থাপনায় বড় ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ফার্মাসিস্ট ছাড়া ফার্মেসি পরিচালনা করা যায় না। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো অনেক ফার্মেসিতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট নেই। বর্তমানে সংকট মোকাবিলায় তিন মাসের কোর্সের মাধ্যমে সি গ্রেড ফার্মাসিস্ট তৈরি করে ফার্মেসিতে যুক্ত করা হচ্ছে, যাদের অনেকের অ্যান্টিবায়োটিক বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণা নেই।
ডিজিডিএ মহাপরিচালক বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিয়ে ওষুধ বিতরণ, রোগীকে পরামর্শ প্রদান, ওষুধ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রেসক্রিপশন বিশ্লেষণের কাজ করানো গেলে ওষুধের অপব্যবহার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক (ফার্মাকোভিজিল্যান্স) ড. মো. আকতার হোসেন বলেন, অ্যাডভার্স ড্রাগ রিঅ্যাকশন দ্রুত রিপোর্টিং, তথ্য বিশ্লেষণ এবং ঝুঁকি মূল্যায়নের মাধ্যমে ওষুধজনিত ঝুঁকি শনাক্ত ও রোগীর নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে ফার্মাকোভিজিল্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
