ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের বিয়ানীবাজারের পর এবার গোলাপগঞ্জেও ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ আয়োজনের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেছে ‘তৌহিদী জনতা’।
উপজেলার মীরগঞ্জ সংলগ্ন কুশিয়ারা নদীতে শনিবার অনুষ্ঠেয় নৌকা বাইচ বন্ধের দাবিতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর মীরগঞ্জ বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয় একদল মানুষ।
স্থানীয় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি মীরগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বাজারে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় নৌকা বাইচ বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন বক্তারা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে কুশিয়ারা নদীতে নৌকা বাইচ আয়োজনের কথা রয়েছে। তবে আয়োজনের এক দিন আগেই ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, নৌকা বাইচ আয়োজনের কারণে নদীর তীরে ভাঙন দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে গান-বাজনা ও বিনোদনের নামে ‘অশ্লীলতা’ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের আয়োজন ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মাওলানা আব্বাস আল মাহমুদের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন আল ইহসান পরিষদের সভাপতি মাওলানা হিফজুর রহমান, আলহেরা একাডেমির সভাপতি সয়েফ উদ্দিন এবং জামিয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জাকারিয়াসহ স্থানীয় বক্তারা।
বক্তারা বলেন, নৌকা বাইচের নামে নদীর পরিবেশ ও তীরের ক্ষতি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধবিরোধী কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না। তারা আয়োজনটি বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে নৌকা বাইচ আয়োজকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে বিয়ানীবাজারের সুনাই নদীতেও নৌকা বাইচ আয়োজন নিয়ে একই ধরনের আপত্তি ও প্রতিবাদ জানিয়েছিল ‘তৌহিদী জনতা’। তবে সেই আপত্তি উপেক্ষা করে গত ২৮ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সহযোগিতায় সেখানে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।
এবার গোলাপগঞ্জের মীরগঞ্জে নৌকা বাইচ আয়োজন নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় শনিবারের কর্মসূচি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের সিদ্ধান্ত কী হয় এবং নির্ধারিত সময়ে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
