কেন্দ্রীয় সভাপতির সফরকালে সিলেট জেলা যুবদল নেতার রহস্যময় ফেসবুক স্ট্যাটাস
কার উদ্দেশ্যে এবং কেন এই স্ট্যাটাস- তা নিয়ে চলছে তোলপাড়
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:০৯
ছবি: সংগৃহিত।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্নার সিলেট সফরকালে সিলেট জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিটন আহমেদের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়।
২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটে সফরে আসেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না। সফরে তিনি জেলা ও মহানগর যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেন। রাতে নবগঠিত সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের কর্মীসভায়ও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
এর মধ্যে লিটন আহমেদের দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখা হয়, ‘সফরসঙ্গীহীন সফর-প্রশ্ন থেকেই যায়!’ স্ট্যাটাসে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতা রাজনৈতিক সফরে এলেও তাঁর সঙ্গে কোনো সফরসঙ্গী কিংবা পাশে বিশ্বস্ত পিএসও না থাকার বিষয়টি নিয়ে। স্ট্যাটাসে লিটন আহমেদ আরও লেখেন, এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—সফরটি শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিকেন্দ্রিক, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো সমীকরণ রয়েছে।
তবে স্ট্যাটাসে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। লিটনের এই স্ট্যাটাসটি যুবদল কেন্দ্রীয় সভাপতির সিলেট সফরকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে লিটন আহমেদের পক্ষ থেকেও কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এদিকে, গত ২০ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। জেলা যুবদলে মোহাম্মদ মকসুদ আহমদকে সভাপতি এবং আব্দুস সালাম টিপুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। ছয় সদস্যের কমিটিতে আরও রয়েছেন সিনিয়র সহসভাপতি কয়েস আহমদ, সহসভাপতি মকসুদুল করিম নুহেল, প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসরুর রাসেল ও সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুল বাশার হাবিব। নতুন কমিটি ঘোষণার পর সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে পদ-পদবি নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
লিটন আহমেদ জুলাই যোদ্ধা ও অতীতে জেলা যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রত্যাশী ছিলেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের কেউ কেউ দাবি করছেন। তবে তাঁর পদ না পাওয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক ফেসবুক স্ট্যাটাসের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। লিটনের স্ট্যাটাসের মন্তব্যের ঘরে কেউ কেউ ‘সিন্ডিকেট’ প্রসঙ্গ তুলেছেন। আবার কয়েকজন বালু-পাথর ব্যবসা এবং এ খাতকে ঘিরে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন। লিটনের স্ট্যাটাসকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা হলেও এর প্রকৃত উদ্দেশ্য কী-তা এখনো স্পষ্ট নয়।
স্ট্যাটাসটি কেন্দ্রীয় সভাপতির সফরকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়েছিল, নাকি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয় নিয়ে-সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। এদিকে কেন্দ্রীয় যুবদল নতুন জেলা ও মহানগর কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
