সুজন মাহমুদ
সিলেটের ওসমানীনগরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সুজন মাহমুদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার তাজপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা।
পুলিশ জানায়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলার আসামি হিসেবে সুজন মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সুজন মাহমুদ দীর্ঘদিন ওসমানীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীর মতো তিনিও আত্মগোপনে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আত্মগোপনে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সরব ছিলেন। গ্রেপ্তারের দুই দিন আগে সুজন মাহমুদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লিখেন-ছাত্রদলকে প্রকাশ্যে কু*ত্তার মত পিটানোর হুমকি দিচ্ছে ছাত্রশিবির, ককটেল মারার স্বীকারোক্তি দিচ্ছে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী! অথচ সারাদেশে স্লোগান হচ্ছে আওয়ামী লীগের গুন্ডারা হুশিয়ার সাবধান.. একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর...!! কি একটা অবস্থা।
এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর বাজার ও দয়ামীর এলাকায় ছাত্রলীগের মশাল মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে সাতজনকে আটক করে পুলিশ ও স্থানীয় জনতা। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান নাজলু, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক চঞ্চল পাল, যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ইকবাল আহমদ, ছাত্রলীগের আহ্বায়ক জোবায়ের আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন, জাবেদ আহমেদ আবিদ ও ছাত্রলীগ নেতা হাম্মাদ আল হাসানসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিয়ে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
