সিলেটে ঘরে বসেই মিলবে ট্রেড লাইসেন্স, নবায়নে লাখ টাকা দাবির অভিযোগে মন্ত্রীর ক্ষোভ
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:৩০
ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে লাখ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানিয়েছেন, শিগগিরই অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যাবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগরের একটি কনভেনশন হলে মহানগর ব্যবসায়ী সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, যেকোনো অর্থনীতির প্রাণ হচ্ছে ব্যবসায়িক কার্যক্রম, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে এটি আরও বাস্তব। সীমিত ভূখণ্ডে বিপুল জনসংখ্যার দেশে অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে ব্যবসা খাতের বিকল্প নেই। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের অবদান এখনও কম। যেখানে অনেক দেশে এই খাতের অবদান ৫৮ থেকে ৮০ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে তা প্রায় ৩৪ শতাংশ।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবসা সহায়ক না হয়ে বাধা সৃষ্টি করছে এমন প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। ব্যবসা শুরু করতে প্রথম ধাপেই ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়, কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম দেখা যাচ্ছে।
মন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে লাখ লাখ টাকা দাবি করা হয়, যা কোনো হিসাব বা রেকর্ডে থাকে না। ব্যবসা শুরুর প্রথম ধাপেই যদি এমন পরিস্থিতি থাকে, তাহলে নতুন বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হন।
তিনি জানান, এসব জটিলতা দূর করতে সরকার ব্যবসা সংশ্লিষ্ট নীতিমালা সহজীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টাল চালু করা হবে, যেখানে ব্যবসায়ীরা মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে আবেদন করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করে নির্ধারিত ফি জমা দিলেই সেখান থেকেই ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যাবে। এজন্য কাউকে আর সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হবে না। জমা দেওয়া ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে যাবে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা শুরু করা সহজ হবে এবং নতুন বিনিয়োগ বাড়বে।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও জানান, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ এগিয়ে চলছে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে তা পুরোপুরি চালুর লক্ষ্যে কাজ হচ্ছে। পাশাপাশি সিলেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ করে তুলবে।
