ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি ঢালে ইঞ্জিনের হুক ছিঁড়ে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সাতটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে স্বাভাবিক হয়েছে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি উদ্ধারে যাওয়ার পথে আখাউড়ায় উদ্ধারকারী ট্রেনের একটি ট্রলির চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে রেলওয়ের এক কর্মী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে লাউয়াছড়া বনাঞ্চলের রেললাইনের উঁচু ঢাল বেয়ে ওঠার সময় পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটে।
ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানায়, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা পাহাড়িকা এক্সপ্রেস দুপুর ১টা ৬ মিনিটে ভানুগাছ স্টেশন ত্যাগ করে। লাউয়াছড়া বনের ভেতরে পাহাড়ি ঢালে ওঠার সময় হঠাৎ ট্রেনটির ইঞ্জিনের হুক ছিঁড়ে যায়।
এতে ট্রেনের পেছনের সাতটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ইঞ্জিনসহ সামনের ১১টি বগি এগিয়ে যায়। আকস্মিক এ ঘটনায় সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেলওয়ের টেকনিক্যাল টিম। তারা বিচ্ছিন্ন বগিগুলো পুনরায় যুক্ত করা ও রেললাইন সচল করার কাজ শুরু করে। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার গৌড়প্রসাদ দাশ পলাশ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই মেরামতকাজ শুরু করা হয়। দ্রুত কাজ শেষ করে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়েছে।
এদিকে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনাকবলিত অংশ উদ্ধারে যাওয়ার সময় উদ্ধারকারী ট্রেনও দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের ইয়ার্ডের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের কেবিন মাস্টার মাইনুল হক জানান, বিকেলে স্টেশনের ইয়ার্ড থেকে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার সময় উদ্ধারকারী ট্রেনটির একটি ট্রলির চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়।
এ ঘটনায় স্বপন নামে রেলওয়ের এক কর্মী আহত হয়েছেন। তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধারকারী ট্রেনের চাকা লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে আখাউড়া-ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। লাইনচ্যুত ট্রলিটি সরিয়ে দ্রুত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
