শিরোনাম
সিলেটসহ ৬ শহরে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলায় জেলায় মাস্টারপ্ল্যান: প্রধানমন্ত্রী ‘আমাকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনুন’, সৌদি থেকে হবিগঞ্জের রেহেনার আকুতি মৃত চেলায় দিনরাত চলছে শতাধিক ড্রেজার, দুই দিনে ২০ কোটি টাকার বালু লুটের অভিযোগ সিলেটে আন্দোলনের মুখে সুরমা নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগ ৭২ শিক্ষানবিশ এএসপির পদায়ন, সিলেটে দুইজন সুখবর দিলেন মন্ত্রী আরিফ: ১০ হাজার কর্মী নিচ্ছে যে দেশ সিলেটে প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে হচ্ছে কমিটি: মন্ত্রী আরিফুল হক খু/ন করে পালিয়ে সিলেটে লুকানোর চেষ্টা: অবশেষে ধরা সিলেট সীমান্তে চো/রাচালান পণ্য জব্দ বিশ্বকাপের ভেন্যু দেখতে সিলেটে আইসিসির প্রতিনিধি দল

https://www.emjanews.com/

19322

surplus

প্রকাশিত

০৪ অক্টোবর ২০২৬ ২১:৪৩

অন্যান্য

‘আমাকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনুন’, সৌদি থেকে হবিগঞ্জের রেহেনার আকুতি

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ২১:৪৩

রেহেনা খাতুন।

সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন হবিগঞ্জের মাধবপুরের গৃহবধূ রেহেনা খাতুন। অতিরিক্ত কাজ করানো, সময়মতো খাবার না দেওয়া, বেতন-ভাতা না পাওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আকুতি জানিয়ে একটি ভিডিওবার্তা পরিবারের কাছে পাঠিয়েছেন রেহেনা।

রেহেনার বোন হেনা বেগমের মাধ্যমে ভিডিওবার্তাটি পরিবারের কাছে পৌঁছায়। হেনা বেগমও বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

রেহেনা মাধবপুর উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী মহল্লার বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, অভাব-অনটনের কারণে প্রায় দুই মাস আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার লালপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন নামের এক দালালের মাধ্যমে গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরবে যান তিনি। বর্তমানে জেদ্দার আলহাদা এলাকায় একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন।

হেনা বেগমের দাবি, সৌদি আরবে অবস্থানরত একটি এজেন্সির মাধ্যমে ১৬ হাজার রিয়ালের বিনিময়ে রেহেনাকে একটি বাসায় দেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁকে অতিরিক্ত কাজ করানো হচ্ছে এবং সময়মতো খাবার দেওয়া হচ্ছে না। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখতে তাঁকে ইন্টারনেট সংযোগও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভিডিওবার্তায় রেহেনা বলেন, দেশে ফেরার জন্য তিনি সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু দেশে পাঠানোর জন্য তাঁর কাছে সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। এত টাকা দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

রেহেনা বলেন, এজেন্সির পক্ষ থেকে তাঁকে বলা হয়েছে, ‘আমি তোমাকে বিক্রি করে দিয়েছি। এরপর দায়দায়িত্ব আর আমি তোমাকে নিতে পারব না।’

ভিডিওবার্তায় রেহেনা আরও বলেন, তিনি জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। তাঁকে নানাভাবে চাপ ও কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। তিনি অসুস্থ এবং বেতন-ভাতাও পাচ্ছেন না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি সরকারের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, তাঁকে যেন উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

রেহেনার স্বামী আলী আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সৌদি দূতাবাসের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমার স্ত্রীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন।’

রেহেনাকে সৌদি আরবে পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দালাল হিসেবে পরিবারের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার মোকন্দপুরের বামুটিয়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘কিছু খরচাপাতি দিলে তাকে আনিয়ে দেব। সৌদি আরব গেলেই তো আসা যায় না।’

ঢাকার ফকিরাপুলের সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি জেনিয়া ওভারসিসের কর্মকর্তা হাসান মিয়া রেহেনা নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ওই নারী কোনো নির্যাতনের শিকার নন। দেশে ফিরতে হলে আমাদের খরচ দিতে হবে। শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে আমাদের কিছু করার নেই।’

এদিকে রেহেনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তাঁর স্বামী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপসহকারী পরিচালক মালেকা বেগম বলেন, ‘যেহেতু আমাদের কাছে আবেদন এসেছে, আমরা সেটি বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠিয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখব। উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় চেষ্টা করব।’

রেহেনার পরিবারের দাবি, দ্রুত সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তাঁর অবস্থান ও শারীরিক পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং তাঁকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।