শিরোনাম
‘বেহেশতের লোভ দেখিয়ে’ বিরোধী দলের দায়িত্বহীন আচরণ: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ঢাকের তালে শুরু শারদোৎসব, নিরাপত্তার চাদরে দেশজুড়ে দুর্গাপূজা সিলেটে রাত ৩টায় প্রকৌশলীর বাসায় ঢুকে বিএনপি নেতার চাঁদা দাবি! যাদুকাটা থেকে বালু উত্তোলনে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ ১৪৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সিলেট যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুদকের অভিযান মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, ১০ হাজার কর্মী যাবেন বিনা খরচে হবিগঞ্জ কারাগারে মাদক মামলার আসামির মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর দেড় মাস সিলেট নগরীর যে স্থানে চলাচলে মানতে হবে বিশেষ নির্দেশনা

https://www.emjanews.com/

19668

international

প্রকাশিত

১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:৫৯

আন্তর্জাতিক

ইয়েমেনে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৫, লক্ষ্যবস্তু প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:৫৯

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবারের এ হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন।

হতাহতদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তারক্ষী ও বেসামরিক কর্মীরা রয়েছেন। হামলার সময় সরকারের কয়েকজন সদস্য প্রাসাদের ভেতরে থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সরকার।
ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে হতাহতের এ তথ্য জানান। তিনি হামলাটিকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এডেন বিমানবন্দরে ইয়েমেনের সরকারকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার পুনরাবৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকার জনগণের মধ্যে থেকেই তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।

সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি এবং মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য নিরাপদে রয়েছেন। তবে হামলায় প্রাসাদের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদের ভেতর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। ইয়েমেনের সরকারি বার্তা সংস্থা সাবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাসাদে হামলার পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় বেসামরিক বাড়িঘরেও গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের একটি সূত্র তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে জানিয়েছে, হামলায় পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে হুথি বাহিনী। হামলার সময় সরকারের বেশ কয়েকজন সদস্য প্রাসাদের ভেতরে ছিলেন।

অন্যদিকে, হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন চ্যানেল একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আল-মাশিক প্রাসাদকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি তারা।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া কাসিম সারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, এডেনে ‘সৌদি সামরিক অভিযানের সদর দপ্তর’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইয়েমেনে সৌদি সামরিক উপস্থিতি রয়েছে—এমন যেকোনো স্থান বা স্থাপনাকে হুথিরা হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু বলে মনে করে।

তবে হুথিদের এ দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা যায়নি। একইভাবে, হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্রও এখনো স্পষ্ট নয়।

ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধের সূচনা ২০১৪ সালে। সে সময় দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দরাব্বুহ মনসুর হাদির সরকারের সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের শেষ দিকে রাজধানী সানা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ২০১৫ সালে তারা রাজধানীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করে।

পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রেসিডেন্ট হাদি দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। একই বছর হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও ওই অভিযানে অংশ নিয়েছিল। তবে ২০২৫ সালে আমিরাত জোট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।

দীর্ঘ সংঘাতের ফলে ইয়েমেন কার্যত বিভিন্ন শক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

এডেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধান কেন্দ্র
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান কেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেন। শহরটিতে অবস্থিত আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনা এবং প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ফলে এই প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে শুধু একটি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হিসেবে নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে জুলাই মাসে পুনরায় লড়াই শুরু হওয়ার পর আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে এটিই প্রথম হামলা। এ হামলার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।